অনলাইন জুয়ার প্রচারণায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে শাবনুর আক্তার ওরফে অন্তরা লিলির বিরুদ্ধে। দেশে অনলাইন জুয়া ও অবৈধ বেটিং কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও থেমে নেই এই অবৈধ বাণিজ্যের নেটওয়ার্ক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের কড়া হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে জুয়ার সফটওয়্যার প্রোমোট করছেন অন্তরা লিলি। তিনি প্রচারণা চালাচ্ছেন 'ওরাকল সফ্ট' নামের একটি বেটিং সফটওয়্যারের।

এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিজের ফেসবুক আইডি থেকে কমেন্ট করেছেন অন্তরা লিলি। সেখানে তিনি লিখেছেন, 'এটা একটি এজেন্সির কাজ ছিল'। তার এই কমেন্টেই প্রকাশ পায়, নিষিদ্ধ অনলাইন বেটিং সফটওয়্যারের প্রচারণায় তিনি কতটা গভীরভাবে যুক্ত।

এদিকে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ সনের ৯৮ নং আইন কার্যকর হয়েছে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে। আইনের ১১ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ইনফ্লুয়েন্সার, শিল্পী, খেলোয়াড় বা সেলিব্রিটি জুয়ার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, মিথ্যা লাভের প্রতিশ্রুতি, প্রলোভনমূলক বিজ্ঞাপন, স্পন্সরশিপ, জুয়ার সফটওয়্যার বানানো প্রচারণা বা রেফারেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

ধারা ২২ অনুযায়ী এই অপরাধের শাস্তি সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড, অথবা সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড। আর ধারা ৬ ও ১৭ অনুযায়ী অনলাইন বেটিংয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। ধারা ২৭ বলছে, জুয়া সংক্রান্ত অপরাধে প্ররোচনা বা সহায়তা করলেও মূল অপরাধের সমান শাস্তি প্রযোজ্য হতে পারে।

এখন প্রশ্ন, খোলামেলাভাবে অনলাইন জুয়ার প্রচারণা চালানোর পরও কি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেয়ে যাবেন অন্তরা লিলি? নাকি এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে রয়েছে আরও বড় কোনো মাস্টারমাইন্ড? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ আর সঠিক তদন্তই পারে এই অন্ধকার জগতের কালো হাতগুলোকে জনসম্মুখে উন্মোচিত করতে।