বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত ঘিরে কক্সবাজারে পর্যটনশিল্পের বিস্তার ঘটলেও বহু হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজে নেই পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, শহর ও পর্যটন এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ ভবনে অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। অনেক প্রতিষ্ঠানের নেই ফায়ার লাইসেন্স, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন। এতে পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও রয়েছেন ঝুঁকিতে।
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যুর পর বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। ওই এলাকায় কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি শতাধিক রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এসব স্থাপনার অনেকগুলোতেই নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই চলছে জেলার প্রায় ৫০০ হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ।
জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার শহর, ইনানী ও রামুর পেচারদ্বীপসহ আশপাশের এলাকায় ছোট-বড় সহস্রাধিক আবাসন ও খাবারের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর অধিকাংশই শুধু স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স শাখার ইন্সপেক্টর শফিকুল ইসলাম জানান, চলতি বছরে মাত্র ৫০টি হোটেল ফায়ার লাইসেন্স নবায়ন করেছে। আবেদন জমা পড়েছে সর্বোচ্চ ১০০টি। আগে প্রায় ২০০টি হোটেলের লাইসেন্স ছিল। লাইসেন্স না থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জনবলসংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান চালানো কঠিন বলেও জানান তিনি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ মোর্শেদ বলেন, জেলায় সর্বোচ্চ ৫০টি হোটেলের পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে। ছাড়পত্র না থাকায় গত বছর ৫৮টি হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, রিসোর্ট ও কটেজকে প্রায় দেড় কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সময়ে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় থাকা শতাধিক হোটেলের বিরুদ্ধে ২৮টি মামলাও করা হয়।
অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় সরু রাস্তার পাশে গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন। কোথাও কোথাও জরুরি যানবাহন চলাচলের মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই, নেই কাছাকাছি জলাশয়ও। ফলে অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ, পানি সংগ্রহ ও উদ্ধারকাজ পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন জানান, মেরিন ড্রাইভ এলাকায় কয়েকশ প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন যাচাই করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে যাচাই করা আড়াই শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে বৈধতা নিশ্চিত করতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, অধিকাংশ হোটেল-গেস্ট হাউস, রিসোর্ট ও কটেজের অনুমোদন না থাকার বিষয়টি তারা জানেন। ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, পর্যটন করপোরেশন, কউক ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে।









