স্মার্ট প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)-এর পরিচালক ও এভিয়েশন-ট্যুরিজম স্কিল ডেভেলপমেন্ট বিশেষজ্ঞ মো. মহিউদ্দিন সেলিম।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং দক্ষ জনবল তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মহিউদ্দিন সেলিম সামমনি এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট -এর প্রতিষ্ঠাতা এবং দীর্ঘদিন ধরে এভিয়েশন, ট্রাভেল ও ট্যুরিজম খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার কাজ করে আসছেন।

তিনি বলেন, “বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তি ও দক্ষতানির্ভর। শুধু পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণ করলেই চলবে না, একই সঙ্গে গড়ে তুলতে হবে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনবলও। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের সমন্বয় আগামী দিনের এভিয়েশন ও পর্যটন শিল্পের চেহারা বদলে দেবে।

citytouch 728-X-90

পর্যটন সম্ভাবনা ও ডিজিটাল রূপান্তর

বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সুন্দরবন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, পার্বত্য অঞ্চলের নৈসর্গিক সৌন্দর্য এবং সিলেটের চা-বাগানসহ দেশের সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, “আমাদের পর্যটন সম্পদকে বিশ্বদরবারে যথাযথভাবে তুলে ধরতে হলে ডিজিটাল রূপান্তরের কোনো বিকল্প নেই। একজন বিদেশি পর্যটক যেন তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে ট্যুর পরিকল্পনা, হোটেল বুকিং, পরিবহন ও অন্যান্য সেবা সহজেই ডিজিটাল মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারেন, সে ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।”

দক্ষ মানবসম্পদই মূল চ্যালেঞ্জ

এভিয়েশন ও ট্যুরিজম খাতে দক্ষ জনবল তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার কাজের একটি বড় অংশই হলো এই শিল্পের জন্য দক্ষ জনবল তৈরি করা। এয়ার টিকিটিং, রিজার্ভেশন, ভিসা প্রসেসিং, ট্যুর অপারেশন, কাস্টমার সার্ভিস, ডিজিটাল ট্যুরিজম এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে নতুন প্রজন্মকে দক্ষ করে তুলতে পারলে দেশের হাজারো তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।”

তার মতে, কেবল প্রযুক্তি প্রবর্তন করলেই পর্যটন শিল্পের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত হবে না; প্রযুক্তি পরিচালনার জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি। তিনি বলেন, “ডেটা অ্যানালিটিক্স, স্মার্ট ট্রাভেল অ্যাপ, অনলাইন বুকিং সিস্টেম এবং এআই-চালিত গ্রাহকসেবা যত উন্নতই হোক না কেন, সেগুলো সফলভাবে পরিচালনার জন্য দক্ষ পেশাজীবী প্রয়োজন। তাই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ করাও অত্যন্ত জরুরি।”

অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

পর্যটন খাতের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে টোয়াব পরিচালক বলেন, “পর্যটন কেবল বিনোদনের বিষয় নয়; এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম।”

তিনি মনে করেন, সরকার, বেসরকারি ট্যুর অপারেটর, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও পর্যটনসেবা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি টেকসই, ডিজিটাল ও দক্ষতাভিত্তিক পর্যটন বাস্তুতন্ত্র (Sustainable, Digital & Skilled Tourism Ecosystem) গড়ে তোলা, যেখানে প্রযুক্তি থাকবে, থাকবে দক্ষ জনবল এবং একই সঙ্গে নিশ্চিত হবে প্রকৃতি ও পরিবেশের সুরক্ষাও।”å

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে দেশের পর্যটক, ট্যুর অপারেটর, পর্যটন উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী এবং এভিয়েশন-ট্যুরিজম খাত সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, “আসুন, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের সমন্বয়ে আমরা বাংলাদেশের এভিয়েশন ও পর্যটন শিল্পকে একটি আধুনিক, টেকসই ও বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যাই।”