আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালা, ২০২৬ সংশোধন করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন বিধিমালায় দলীয় প্রতীক বাদ দেওয়ার পাশাপাশি প্রার্থীদের জামানত ও নির্বাচনি ব্যয়ের সীমা বাড়ানো হয়েছে।
সংশোধিত প্রতীক তালিকায় দলীয় প্রতীক বাদ দিয়ে মোট ৪২টি প্রতীক রাখা হয়েছে। এর মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জন্য ২০টি, সংরক্ষিত সদস্যদের জন্য ১০টি এবং সাধারণ সদস্য প্রার্থীদের জন্য ১২টি প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা। কোনো প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ পেলে জামানত ফেরত পাবেন; এর কম ভোট পেলে তা বাজেয়াপ্ত হবে।
নির্বাচনি ব্যয়ের সীমাও বাড়ানো হয়েছে। চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয় ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর জন্য ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয়ের জন্য তফসিলি ব্যাংকে আলাদা হিসাব খোলার বিধান রাখা হয়েছে। কোনো খাতে ২০ হাজার টাকা বা তার বেশি ব্যয় হলে চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।
প্রার্থিতা বাতিলের বিধান
নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হলে কমিশন লিখিত আদেশে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে। একই সঙ্গে কোনো কেন্দ্রে বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি বা অন্য কোনো অনিয়মে ফলাফল পক্ষপাতদুষ্ট হলে কমিশন ফল স্থগিত বা প্রয়োজন হলে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবে।
সমান ভোটে লটারি নয়
দুই বা ততোধিক প্রার্থী সর্বোচ্চ সমান ভোট পেলে এবার লটারির পরিবর্তে পুনঃভোট অনুষ্ঠিত হবে। সমভোট পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে পুনঃভোটের নির্দেশ দেবে কমিশন।
প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য সহায়তার সুযোগ
দৃষ্টি বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কিংবা অন্য কোনো কারণে ভোট দিতে সহায়তা প্রয়োজন হলে কমপক্ষে ২১ বছর বয়সী একজন সহায়তাকারী সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি দিতে পারবেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা। তবে সহায়তাকারী কোনো প্রার্থী, প্রার্থীর এজেন্ট, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হতে পারবেন না।
এ ছাড়া নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, ভোটকেন্দ্রে যেতে ভোটারকে বাধা দেওয়া কিংবা প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র দাখিল বা প্রত্যাহারে বাধ্য করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
নির্বাচনি অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণে তফসিল ঘোষণার পর প্রয়োজন অনুযায়ী মনিটরিং কমিটি গঠন করতে পারবে ইসি।









