‘চুলা জ্বলছে না, গ্যাস নেই’ এখন এটি শুধু একটি অভিযোগ নয়, বহু পরিবারের নিত্যদিনের বাস্তবতা। অথচ দেশে এলপিজির আমদানি হয়েছে পর্যাপ্ত, কোম্পানিগুলোও মজুত থাকার কথা বলছে। তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায় গ্যাস আছে, কিন্তু বাজারে নেই কেন?

এই প্রশ্নের মধ্যেই জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের এলপিজি সরবরাহ আটকে রাখার অভিযোগ খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে। আইগ্যাস, ওমেরা, পেট্রোম্যাক্স, বিএম এনার্জি ও যমুনার নাম এসেছে প্রতিবেদনে। তবে অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয়। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কোনো প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা যেমন ঠিক হবে না, তেমনি অভিযোগটিকেও গুরুত্বহীন করে দেখার সুযোগ নেই।

কারণ বাজারের বাস্তব চিত্র যথেষ্ট উদ্বেগজনক। সেপ্টেম্বরে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। এরপরও বিইআরসি নির্ধারিত ১ হাজার ৫৮৫ টাকার ১২ কেজির সিলিন্ডার কোথাও কোথাও ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। একজন সাধারণ ভোক্তার জন্য একেকটি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত এক হাজার টাকার বেশি দেওয়া নিছক বাড়তি খরচ নয় এটি পরিবারের মাসিক বাজেটে সরাসরি চাপ।

citytouch 728-X-90

আরও বড় প্রশ্ন হলো, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রিমিয়াম বাড়ার আগে আমদানি করা এলপিজি মজুত করে পরে বেশি দামে বাজারে ছাড়ার কোনো চেষ্টা হয়েছে কি না। যদি তদন্তে এমন কিছু প্রমাণিত হয়, তাহলে সেটি শুধু ব্যবসায়িক অনিয়ম নয়; এর প্রভাব পড়ছে লাখো ভোক্তার ওপর। আবার যদি অভিযোগের সত্যতা না মেলে, তাহলে বাজারে সংকটের প্রকৃত কারণও দ্রুত প্রকাশ করা দরকার।

এখানে সরকারের দায়িত্ব শুধু দাম নির্ধারণ করেই শেষ হয়ে যায় না। কোন চালান কখন দেশে এসেছে, কতটা খালাস হয়েছে, কতটা মজুত রয়েছে এবং কতটা বাজারে ছাড়া হয়েছে এই পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার হিসাব স্বচ্ছ হওয়া জরুরি। আমদানিকারক থেকে ডিলার, ডিলার থেকে খুচরা বিক্রেতা কোথায় সরবরাহ আটকে যাচ্ছে, সেটি বের করতে হবে।

ওমেরা অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, তারা এলপিজির সরবরাহ নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেয়। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্যও তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। কারণ কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নয়, প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক তদন্ত ও জবাবদিহি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভোক্তাকে জিম্মি করে কোনো ব্যবসা চলতে পারে না। বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য থাকলে তার সুফল ভোক্তা কেন পাবেন না, আর সংকট থাকলে তার প্রকৃত কারণ কী এই দুই প্রশ্নের উত্তর সরকার ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেই দিতে হবে।

আজ সাধারণ মানুষের প্রশ্ন খুব সহজ দেশে এলপিজি আছে, আমদানিও হচ্ছে; তাহলে ১ হাজার ৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ২ হাজার ৬০০ টাকায় কেন?

এই প্রশ্নের উত্তর শুধু বক্তব্যে নয়, প্রয়োজন স্বচ্ছ তদন্ত, বাজার তদারকি এবং প্রয়োজনে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা। কারণ গ্যাসের সংকট মানে শুধু একটি সিলিন্ডারের সংকট নয়এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি পরিবারের রান্নাঘর, একটি ছোট ব্যবসা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়।

দেশে গ্যাস আছে, আমদানিও আছে তবু বাজারে নেই কেন? এই প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের মাধ্যমেই পরিষ্কার হওয়া উচিত।এলপিজি কোথায় আটকে আছে এখন সেই প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তরই মানুষ জানতে চায়।