যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বাড়ছে হাম বা মিজলসের সংক্রমণ। রোগটির বিস্তার ঠেকাতে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে জরুরি দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয়েছে। একই সময়ে প্রতিবেশী পেনসিলভানিয়ায় চলতি বছরে হাম আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটিতে এটি গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাবগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল সোমবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের মিজলস, মাম্পস ও রুবেলা (এমএমআর) টিকা দেওয়ার সক্ষমতা সাময়িকভাবে বাড়ানো হয়েছে। ঘোষিত জরুরি পরিস্থিতি আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
গভর্নরের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর পর্যন্ত নিউইয়র্কে চলতি বছরে ১০৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক সিটিতে সাতজন এবং অঙ্গরাজ্যের অন্যান্য এলাকায় ১০১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। গত ১৫ জুলাই থেকে অঙ্গরাজ্যের কয়েকটি গ্রামীণ এলাকায় ৯২টি সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এসব এলাকার অনেক জায়গায় টিকাদানের হার প্রয়োজনীয় মাত্রার নিচে রয়েছে।
গভর্নর ক্যাথি হোকুল বলেন, টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব এমন একটি রোগে কারও গুরুতর অসুস্থ হওয়া কিংবা মৃত্যুর ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়।
নিউইয়র্কের পাশাপাশি পেনসিলভানিয়া, টেক্সাস, ইউটা, ওহাইও এবং সাউথ ক্যারোলাইনাতেও হাম ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে পেনসিলভানিয়ায় চলতি বছরে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধে কোনো জনগোষ্ঠীর প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষের টিকাদান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় রোগটির পুনরুত্থানের ঝুঁকি বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, টিকা নিয়ে ভুল তথ্য এবং টিকাবিরোধী প্রচারণার বিস্তারের কারণে বিভিন্ন এলাকায় টিকাদানের হার কমছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যনীতি নিয়েও এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০০০ সালে স্থানীয়ভাবে হাম ছড়িয়ে পড়া কার্যত নির্মূল করা হয়েছিল। তবে এরপরও বিভিন্ন সময়ে বিচ্ছিন্নভাবে রোগটির সংক্রমণ দেখা গেছে। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে নিউইয়র্ক সিটিতে কয়েক বছর ধরে হাম আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজারের বেশি ছিল।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর হামমুক্ত মর্যাদা নিয়ে আগামী নভেম্বরে পর্যালোচনা বৈঠকে বসতে যাচ্ছে প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন (পিএএইচও)। ওই বৈঠকে দুই দেশের বর্তমান হামমুক্ত অবস্থান বহাল থাকবে কি না, তা পর্যালোচনা করা হবে।
পিএএইচও জানিয়েছে, হাম নির্মূলের অর্জন ধরে রাখতে উচ্চ ও সমান টিকাদান হার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শক্তিশালী রোগ নজরদারি এবং দ্রুত প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার ব্যবস্থা প্রয়োজন। টিকাদানের হার কমে গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।










