৭ অক্টোবরের হামলার পর গত তিন বছরে গাজা, লেবানন, সিরিয়া, ইরান ও ইয়েমেনে প্রায় এক লাখ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গত তিন বছরের সামরিক অভিযান ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

আইডিএফের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে প্রায় এক লাখ লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে গাজায় ৬৫ হাজার, লেবানন ও সিরিয়ায় ২৮ হাজার, ইরানে ৪ হাজার ৫০০ এবং ইয়েমেনে ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে ইসরাইলের দিকে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যার হিসাবও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সিরিয়া থেকে ৫০টি, ইরান থেকে ১ হাজার ২০০টি, লেবানন থেকে ২০ হাজার, গাজা থেকে ১০ হাজার ২০০টি এবং ইয়েমেন থেকে ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।

citytouch 728-X-90


আইডিএফের হামলায় নিহত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কয়েকজন শীর্ষ নেতার নামও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হিজবুল্লাহর সাবেক মহাসচিব হাসান নাসরাল্লাহ, সংগঠনটির নির্বাহী পরিষদের সাবেক প্রধান হাশেম সাফিয়েদ্দিন, হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সাবেক প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ার এবং ইজ্জ আদ-দীন আল-কাসসাম ব্রিগেডের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ দেইফ রয়েছেন।

এছাড়া ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার আলী হাজিজাদেহ এবং আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফ হোসেইন সালামির নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে যুদ্ধের সময়ে আইডিএফের বিভিন্ন সামরিক কমান্ডে কাঠামোগত পরিবর্তন ও নতুন সক্ষমতা তৈরির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ড প্রায় ৪০টি নতুন সামরিক অবস্থান বা আউটপোস্ট স্থাপন করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।


গোয়েন্দা বিভাগ গোয়েন্দা তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য একটি বিশেষ ডেটা বিভাগ তৈরি করেছে। হঠাৎ তৈরি হওয়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিমানবাহিনী বিশেষ কমান্ড কাঠামো তৈরি এবং মাঠপর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের সক্ষমতা বাড়িয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেন্ট্রাল কমান্ডের অধীনে পূর্ব সীমান্তে ৯৬তম ‘গিলিয়াদ’ ডিভিশন এবং আঞ্চলিক প্রতিরক্ষার জন্য ডেড সি এয়ার কমান্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। একই সঙ্গে হোম ফ্রন্ট কমান্ড সতর্কতা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি হুমকির ধরন ও অবস্থান অনুযায়ী সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা উন্নত করেছে।


আইডিএফের প্রযুক্তি ও লজিস্টিকস বিভাগ অস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামো দ্রুত মেরামত করে পুনরায় কার্যকর করার জন্য ‘অ্যাকসেলারেশন’ কর্মসূচিও চালু করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আইডিএফের ৯৭০ জন সেনা নিহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আহত সেনাদের ৭০ শতাংশের বেশি আবার দায়িত্বে ফিরেছেন। একই সময়ে রিজার্ভ সেনার সংখ্যা প্রায় ৩৬ শতাংশ বেড়েছে।

গত তিন বছরে আইডিএফে নতুন নয়টি ডিভিশন গঠন করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘হাশোমের ব্রিগেড’, ‘ডেভিড ব্রিগেড’ এবং ৩৮তম ডিভিশনের নাম রয়েছে।