সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া (৪৭) ও লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরার (৪৩)-এর বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, অনলাইনে সরকারবিরোধী প্রচার এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের তদন্ত করতে আদালতের কাছে রিমান্ড আবেদন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম দিদারুল আলম দুই আসামিকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
এর আগে রোববার দিবাগত রাত ১২টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ অভিযানে রাজধানীর পল্লবী ও বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও তাঁদের সহযোগীরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, তহবিল সংগ্রহ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তদন্তের আওতায় রয়েছেন।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তাঁরা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে সরকারবিরোধী প্রচার চালিয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পলাতক কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব যোগাযোগের উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁরা সহযোগীদের নিয়ে সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং কুৎসামূলক প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের সঙ্গে তাঁদের কোনো যোগাযোগ ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিদের শনাক্ত করা, তাঁদের অবস্থান নির্ণয়, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল আলামত উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের পরিচালিত অন্যান্য ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজের তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করে।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর হারুন-অর-রশীদ শুনানিতে বলেন, দুই আসামির সঙ্গে সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যোগাযোগ থাকার অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের কাছে অভ্যন্তরীণ তথ্য পাচারের অভিযোগও তদন্ত করা প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং তাঁদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি কোনো ব্যক্তির যোগাযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এ কারণে রাষ্ট্রপক্ষ তাঁদের সর্বোচ্চ মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানায়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন জানান, সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রাখার অভিযোগও তদন্ত করা হচ্ছে। সাইবার অপরাধের মাধ্যমে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে রিমান্ড আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কোনো আসামিকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।










