রাজধানীর উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা দিয়েছে। এদিকে তাহসিফের এক সহপাঠীর ফেসবুক পোস্টেও মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সন্দেহের কথা উঠে এসেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তাহসিফের সহপাঠী কেএসএম ইনতিসার ইনজিমাম আদমজী কলেজে তার সঙ্গে পড়াশোনা করেছেন। পরে তারা বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ৭৯ বিএমএ ইক্যুইভ্যালেন্ট কোর্সেও একসঙ্গে অংশ নেন। তাহসিফের মৃত্যুর পর ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে ইনতিসার লেখেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তাহসিফের সম্পৃক্ততার কথা আলোচনায় এসেছিল। তার মরদেহ তুরাগ নদে ভেসে ওঠার ঘটনায় তিনি শোক প্রকাশ করেন এবং মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

পোস্টে ইনতিসার দাবি করেন, তাহসিফ বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। মরদেহের ছবিতে হাতে কাদা দেখা গেলেও শরীরের অন্য অংশ পরিষ্কার ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে এ বিষয় থেকে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চান না বলেও জানান। তার বক্তব্য, ব্যক্তিগত বিরোধ বা দুর্ঘটনা হিসেবে মৃত্যুর বিষয়টি পরিষ্কার না হলে তিনি ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত বলে সন্দেহ করবেন।

ইনতিসার আরও লেখেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাহসিফকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমালোচনা ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল বলে তার ধারণা। এ ঘটনার সঙ্গে তাহসিফের মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। তবে এসব বক্তব্য তার ব্যক্তিগত ধারণা; এগুলোর পক্ষে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ এখনো প্রকাশিত হয়নি।

পোস্টের শেষে বন্ধুর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ইনতিসার।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাহসিফের মরদেহ বুধবার বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরে কচুরিপানার মধ্য থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফিরোজ উদ্দিন জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে মরদেহের অবস্থা দেখে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

ঢাকা জেলা নৌ-পুলিশের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তাহসিফের শরীরে বাইরে থেকে দৃশ্যমান কোনো আঘাত বা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যেতে পারে। স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্য ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের ঘটনায় তাহসিফের নাম আলোচনায় এসেছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে তার মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।