আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ঋণ পেতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চারটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে হবে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০৩১ সালের মধ্যে কর অব্যাহতি তুলে দেওয়া, সারা দেশে ভ্যাটের অভিন্ন হার চালু, রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং রাজস্ব নীতি ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম পৃথক করা।

সম্প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যানের সঙ্গে সংস্থাটির আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তাদের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আইএমএফের আগের ঋণ কর্মসূচিতে বেশ কিছু শর্ত থাকলেও সেগুলো বাস্তবায়নে তুলনামূলক শিথিলতা ছিল। তবে নতুন ঋণ পেতে এবার শর্তগুলোর বাস্তবায়নের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সংস্থাটি।

আইএমএফের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ২০৩১ সালের মধ্যে সব ধরনের কর অব্যাহতি তুলে দেওয়া। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে কর অব্যাহতির পরিমাণ প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। দেশীয় শিল্প সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে সরকার বিভিন্ন খাতে কর অব্যাহতি দিয়ে থাকে।

এ ছাড়া ভ্যাটের অভিন্ন হার বাস্তবায়নের শর্ত দিয়েছে আইএমএফ। বর্তমানে বিভিন্ন খাতে ভ্যাটের হার ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত। শিল্পের সুবিধা ও জনস্বার্থ বিবেচনায় এসব ভিন্ন হার চালু রয়েছে। তবে আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী, সব ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ভ্যাট হার কার্যকর করতে হবে।

এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, কর অব্যাহতি প্রত্যাহার ও ভ্যাটের একটি মানসম্মত হার নির্ধারণ আইএমএফের বড় উদ্বেগের বিষয়। পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ বাড়াতে এনবিআরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চেয়েছে সংস্থাটি। এনবিআরকে পৃথক করার উদ্যোগের বাস্তবায়নও দেখতে চায় তারা।

রাজস্ব আহরণের আওতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে আইএমএফের প্রতিনিধিদল। নতুন ঋণ প্রস্তাবের ক্ষেত্রেও করের আওতা সম্প্রসারণের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে এনবিআরকে পৃথক করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে রাজস্ব নীতি ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম আলাদা করার প্রক্রিয়া চলছে। এ লক্ষ্যে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের জন্য অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। আগামী সংসদ অধিবেশনে এ-সংক্রান্ত বিল উত্থাপনের কথা রয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, রাজস্ব নীতি বিভাগ কর ও রাজস্বসংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করবে। অন্যদিকে বর্তমান এনবিআর রাজস্ব আদায়ের বাস্তবায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব নীতি বিভাগে ১৬ সদস্যের একটি কাউন্সিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই কাউন্সিলে ব্যবসায়ী, আমলা, অর্থনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।