জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীর কারাগার ও রিমান্ডে থাকাকালে নির্যাতন, চিকিৎসায় অবহেলা এবং অজ্ঞাত ওষুধ-ইনজেকশন দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
তানভীরের দাবি, ৫ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কারাগার ও রিমান্ডে থাকার সময়ে তাঁকে অপরিচ্ছন্ন ও আলো-বাতাসহীন সেলে রাখা হয় এবং নিয়মিত পচা-বাসি খাবার দেওয়া হতো। অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ না দিয়ে অজ্ঞাত ওষুধ খাওয়ানো এবং ৭০-৮০টি ইনজেকশন দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও দাবি করেন, একপর্যায়ে হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে স্ট্রোক হয়েছে বলে জানান। পরে সিটি স্ক্যান ও এমআরআই নিয়ে জটিলতার অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমানে শারীরিকভাবে গুরুতর সমস্যায় ভুগছেন এবং একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানান তানভীর।
তানভীরের অভিযোগ, কারাগারে আওয়ামী লীগের মামলার কিছু আসামিকে বিশেষ সুবিধা, ভালো খাবার, ফোনে কথা বলা ও নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হতো। এমনকি রাতে কয়েকজনকে গাড়িতে করে বাইরে নিয়ে যাওয়ার পর ভোরে ফেরত আনার দৃশ্যও দেখেছেন বলে দাবি করেন তিনি। এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া-আসার পথে সাদা পোশাকের কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে নির্যাতন করেছেন এবং বসুন্ধরা গ্রুপের মালিক আহমেদ আকবর সোবহান ও তাঁর ছেলে আনভীরের নাম উল্লেখ করেছেন—এমন অভিযোগও করেন তানভীর। তিনি বলেন, বিষয়গুলোর তদন্ত ও বিচার হওয়া প্রয়োজন। এসব অভিযোগও তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত; স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়।
তানভীরকে ২ আগস্ট সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় আসামি করা হয় এবং ৫ আগস্ট গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পান তিনি।










