পাবনা সদর উপজেলার একটি আবাসিক মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সম্প্রতি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত এক শিক্ষককে আটক করে।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ জানিয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু নিপীড়ন বা যেকোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াও সমর্থনযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মহিবুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এসব কথা বলেন। সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী বিবৃতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে এ অবস্থান জানিয়েছে সংগঠনটি। শিক্ষার্থীদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনাও ঘটেছে।

বিবৃতিতে হেফাজতের নেতারা বলেন, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি। প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

শিশু নির্যাতনকে একটি পুরোনো সামাজিক ব্যাধি হিসেবে উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, এ সমস্যা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ স্কুল, মাদ্রাসা এবং সমাজের অন্যান্য স্থানেও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।

কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ দেশের ছয়টি কওমি মাদ্রাসা বোর্ড এবং তাদের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে।

নির্দেশনায় প্রতিটি মাদ্রাসায় অবিলম্বে শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি গঠন বা সক্রিয় করার কথা বলা হয়েছে। কোনো শিশু নির্যাতন বা অনৈতিক আচরণের লিখিত কিংবা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডগুলোতে শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ সেল গঠন এবং সরাসরি অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি না থাকলে, কমিটি নিষ্ক্রিয় থাকলে কিংবা অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার অধিভুক্তি বা সনদ স্থগিত কিংবা বাতিল করার বিধানের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতির শেষাংশে হেফাজতের নেতারা বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের শারীরিক নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। স্কুল ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কঠোর নিরাপত্তানীতি অনুসরণের পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

তাঁরা আরও বলেন, যেকোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে দোষী ব্যক্তিকে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি—উভয় ধরনের শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা বা আপস করা যাবে না।