জাতীয় দলের ব্যস্ততার কারণে সিপিএলের শেষ দিকে নবীকে পাওয়া যাবে না ,এটি আগে থেকেই জানা ছিল গায়ানার। তাই অভিজ্ঞ আফগান অলরাউন্ডারের বিকল্প খুঁজছিল দলটি। সেই সময় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে মিরাজের পারফরম্যান্স নজরে পড়ে গায়ানা টিম ম্যানেজমেন্টের।
ডারউনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মিরাজ। ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রান খরচ করে ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে তার সেই পারফরম্যান্সই সিপিএলে গায়ানার নজরে আসার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সুযোগ পাওয়ার পর অবশ্য সময় নেননি মিরাজ। গায়ানার হয়ে অভিষেক ম্যাচেই ১৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেন। পরের ম্যাচে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন তিনি। মাত্র ২৩ রান দিয়ে তুলে নেন ৪ উইকেট। তার বোলিংয়েই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় গায়ানা এবং ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন মিরাজ।
মিরাজের এমন পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে,নবীর অনুপস্থিতি কি এখনো অনুভব করছে গায়ানা?
দলের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডারের অবদানের কথা স্বীকার করেও মিরাজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন অধিনায়ক ইমরান তাহির।
তিনি বলেন, “নবীকে অবশ্যই মিস করি। সে আমাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ ছিল। তবে মেহেদী (মিরাজ) সত্যিই খুব ভালো করছে। অস্ট্রেলিয়া সফরে সে দারুণ বোলিং করেছে, যা আমরা খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও সে দীর্ঘদিন ধরে পারফর্ম করে আসছে।”
মিরাজের দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার প্রশংসা করে তাহির আরও বলেন, “সে দলে এসেই যেভাবে বোলিং করছে, তাতে আমি সত্যিই খুশি। গুরুত্বপূর্ণ উইকেটগুলো যেভাবে নিয়েছে, তা অসাধারণ। আমি আগেও বলেছি, কেউ যখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলে এবং এমন একটি সুযোগ পায় গায়ানার মতো চমৎকার একটি দলের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ তখন সেটি কাজে লাগানো উচিত।”
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট থেকে ক্যারিবিয়ান টি-টোয়েন্টি দুই ফরম্যাটের ক্রিকেটে পার্থক্য অনেক। তবে মিরাজের পারফরম্যান্সে সেই পার্থক্যের প্রভাব এখনো দেখা যায়নি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সিপিএলেও শুরুটা করেছেন দারুণভাবে। গায়ানার হয়ে তার এই পারফরম্যান্স বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও হতে পারে ইতিবাচক বার্তা।








