বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের রূপ-লাবণ্য উপভোগ করতে প্রতি বছর কোটি মানুষের ঢল নামে কক্সবাজারে। তবে আন্তর্জাতিক মানের এই পর্যটন নগরীতে পা রাখতেই শুভকামনার বদলে পর্যটকদের বরণ করে নিচ্ছে ড্রেনের পচা পানির তীব্র দুর্গন্ধ।
শহরের প্রাণকেন্দ্র কলাতলী বাইপাস সড়কের জেল গেট-সংলগ্ন এলাকাটি এখন যেন জলাবদ্ধতা আর দুর্ভোগের আঁতুড়ঘর। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন পড়ে থাকা ড্রেন উপচে নোংরা কালচে পানি ছড়িয়ে পড়েছে মূল সড়কের একাংশে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, কোনটা পাকা সড়ক আর কোনটা নর্দমা—তা পরখ করাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
প্রতিদিন এই প্রধান প্রবেশপথ দিয়ে দেশি-বিদেশি পর্যটক ও স্থানীয় মিলিয়ে অন্তত এক লাখ মানুষ যাতায়াত করেন। অথচ বর্ষা মৌসুম এলেই দেখা দেয় চরম অব্যবস্থাপনা।
বৃষ্টির পানির সঙ্গে পাহাড় কাটার মাটি ও লাল বালু এসে ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে গেছে। নর্দমার দুই পাশে নানা অবৈধ দখল ও বাধা থাকায় পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক উপচে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লা পানি ছড়িয়ে পড়ে, যা পথচারীদের পোশাকে ছিটকে পড়ে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
দিনের পর দিন এমন নাজুক পরিস্থিতি চলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আজিম অভিযোগ করে বলেন, “প্রতি বর্ষায় একই নরকযন্ত্রণা সহ্য করতে হয়, অথচ প্রশাসনের হেলদোল নেই।”
অন্য এক বাসিন্দা সাহাব উদ্দিন আক্ষেপ করে জানান, শহরের প্রবেশমুখেই পর্যটকদের নাকে রুমাল চেপে ঢুকতে হয়, যা দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। ঘুরতে আসা পর্যটকদের মতে, এ দৃশ্য কক্সবাজারের ইতিবাচক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।
রংপুর থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক রোহান মিয়াজি বলেন, “পর্যটন নগরী কক্সবাজারের প্রবেশপথে এমন পরিস্থিতি একটি পর্যটন কেন্দ্রের জন্য শুভনীয় নয়।”
ঢাকার মিরপুর থেকে আসা তাসনিয়া জাহান বলেন, “পর্যটন এলাকায় যদি নাক-মুখ চেপে ধরে ঢুকতে হয়, তাহলে এটি আর পর্যটন এলাকা হলো কীভাবে?”
বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার। তিনি জানান, জনভোগান্তি কমাতে ও পানির প্রবাহ স্বাভাবিক করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে সচেতন মহল ও স্থানীয়দের দাবি, কেবল সাময়িক আশ্বাস নয়; ড্রেন পুনর্নির্মাণ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ এবং পাহাড় কাটা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে এর একটি টেকসই ও স্থায়ী সমাধান বের করা হোক।










