ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রয়োজনীয় ফি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
তিনি বলেন, ট্যুর অপারেটরদের নিবন্ধনসংক্রান্ত বিদ্যমান বিধিমালা সংশোধনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সুপারিশ ও প্রস্তাবগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে তাঁদের পেশাগত কার্যক্রম সহজ করা এবং পর্যটনশিল্পের বিকাশে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ট্যুর অপারেটরদের বিদেশ থেকে অর্জিত আয়ের বিপরীতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ফোরামে উপস্থাপন করা হবে। এ খাতের বৈদেশিক আয় অর্জনের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের টেকসই বিকাশ, আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান সুদৃঢ় করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ লক্ষ্যে পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং পর্যটনসেবার মানোন্নয়নে সরকার কাজ করছে।
রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘এআই পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেস্টিনেশন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এবারের মেলা বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী। পর্যটনশিল্প এখন শুধু ভ্রমণ ও অবকাশযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কার্যকর ব্যবহার পর্যটন ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ, দ্রুত ও দক্ষ করতে পারে। পর্যটন গন্তব্যের ব্যবস্থাপনা, পর্যটকদের নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। এতে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি এ খাতের স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে।
আন্তর্জাতিক অংশীদারদের স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যটন খাতে সহযোগিতা জোরদার করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে দেশের বিমান চলাচল অবকাঠামোর উন্নয়ন, ডিজিটাল সেবার আধুনিকায়ন এবং বিদেশি পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, সরকার একটি সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ করছে। এতে বিভিন্ন শ্রেণি ও বৈশিষ্ট্যের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে এসব পর্যটনকেন্দ্র উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের কাজও চলছে।
কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামী মাসে বিমানবন্দরটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে কক্সবাজারে তিন মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভ্যাল আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগ দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে এবং কক্সবাজারকে আরও আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে নিরাপদ, টেকসই, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিল্পে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি ও বেসরকারি খাতের পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয় ও পর্যটন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।









