কক্সবাজারে ৩০ শতক জমির নামজারি করে দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ হিসেবে ৯ শতক জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উপসচিব পঙ্কজ বড়ুয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, আদালতের ডিক্রি পাওয়ার পর কক্সবাজার মৌজার ৩০ শতক জমির নামজারি করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন মালিক। অভিযোগ, নামজারি করে দেওয়ার বিনিময়ে তার কাছে জমি দাবি করা হয়। পরে ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল একটি অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলের মাধ্যমে মোট ৯ শতক জমি লিখে দেওয়া হয়।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ওই ৯ শতকের মধ্যে ৩ শতক তৎকালীন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবুল হোসেনের পক্ষে তার শ্যালক মফিজুর রহমানের নামে, ৩ শতক তৎকালীন ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সৈয়দ নূরের পক্ষে তার শ্যালক ইফতেখারুল হাসানের নামে এবং বাকি ৩ শতক তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পঙ্কজ বড়ুয়ার পক্ষে তার দাদিশাশুড়ি দীপিকা বড়ুয়ার নামে রেজিস্ট্রি করা হয়।
মামলা অনুমোদন পাওয়া পাঁচজন হলেন পঙ্কজ বড়ুয়া, সৈয়দ নূর, মফিজুর রহমান, ইফতেখারুল হাসান ও দীপিকা বড়ুয়া। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬১, ১৬২ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক তানজীর আহমেদ জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সাবেক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবুল হোসেনও অনুসন্ধানের আওতায় ছিলেন। তবে তিনি ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর মারা যাওয়ায় তাকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে পঙ্কজ বড়ুয়া বলেছেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না।’ অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় এখন মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।










