বিয়ের আগে বর-কনের কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচক ডা. তাসনিম জারা। তার মতে, কিছু রোগের লক্ষণ বাইরে থেকে বোঝা না গেলেও পরীক্ষার মাধ্যমে আগেই শনাক্ত করা সম্ভব। এতে দাম্পত্য জীবনে স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সন্তানের কিছু বংশগত রোগের ঝুঁকি সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়।
ডা. তাসনিম জারা বিয়ের আগে থ্যালাসেমিয়া, হেপাটাইটিস বি ও সি, এইচআইভি এবং যৌনবাহিত সংক্রমণের পরীক্ষা করার কথা বলেছেন। থ্যালাসেমিয়া বংশগত রক্তরোগ হওয়ায় সন্তান নেওয়ার আগে দম্পতির বাহক-অবস্থা জানা গুরুত্বপূর্ণ। দুইজনই নির্দিষ্ট থ্যালাসেমিয়া জিনের বাহক হলে সন্তানের গুরুতর থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ও জেনেটিক কাউন্সেলিং গুরুত্বপূর্ণ।
থ্যালাসেমিয়া শনাক্তে তিনি ‘এইচবি ইলেকট্রোফোরেসিস’ পরীক্ষার কথা উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি হেপাটাইটিস বি ও সি, এইচআইভি এবং সিফিলিসসহ অন্যান্য যৌনবাহিত সংক্রমণের পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে কোন কোন পরীক্ষা প্রয়োজন, তা ব্যক্তির বয়স, ঝুঁকি, পারিবারিক ইতিহাস ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা ভালো। হেপাটাইটিস বি স্ক্রিনিংয়ের ক্ষেত্রে বর্তমানে HBsAg, anti-HBs ও total anti-HBc—এই তিনটি পরীক্ষার সমন্বিত ‘ট্রিপল প্যানেল’ ব্যবহারের সুপারিশ রয়েছে।রক্তের গ্রুপ ও Rh factor জানাও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। বিশেষ করে স্ত্রীর Rh-negative এবং সন্তানের Rh-positive হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
ডা. তাসনিম জারার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পরীক্ষা করাতে প্রায় এক থেকে দেড় হাজার টাকা খরচ হতে পারে। তবে কোনো পরীক্ষায় রোগ ধরা পড়লেই বিয়ে করা যাবে না—এমন নয়। অনেক রোগের চিকিৎসা ও সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা রয়েছে। তাই পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে উদ্বেগের পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাই গুরুত্বপূর্ণ।










