দেশের কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি রাখা হয়েছে। কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ৭৬টি কারাগারে বন্দি ছিল ১ লাখ ৪ হাজার ৬১৭ জন; অথচ কারাগারগুলোর মোট অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৮৬ জন। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার তুলনায় বন্দি রয়েছে প্রায় আড়াই গুণ। কিছু কারাগারে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। শেরপুর জেলা কারাগারের ধারণক্ষমতা মাত্র ১০০ জন, কিন্তু সেখানে বন্দি ৭৪৬ জন ধারণক্ষমতার প্রায় সাড়ে সাত গুণ। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৫৩ জনের জায়গায় বন্দি ৯৩৬ জন, ভোলায় ১০০ জনের ধারণক্ষমতার বিপরীতে বন্দি ৬৬৮ জন। নারায়ণগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, ঝিনাইদহ, রাজবাড়ী ও চাঁদপুরের কয়েকটি কারাগারেও ধারণক্ষমতার প্রায় পাঁচ গুণ বন্দি রয়েছে। বন্দির সংখ্যা বাড়ার পেছনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান বড় কারণ। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ মে থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত বিশেষ অভিযানে ৫৩ হাজার ৫১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; অন্যান্য মামলা ও অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও ১ লাখ ৪১ হাজার ৬২৮ জন। মাদক-সংক্রান্ত মামলায় আটক আছেন প্রায় ১৮ হাজার ৭৭১ জন বন্দি। অতিরিক্ত বন্দির চাপে আবাসন, চিকিৎসা, খাবার, স্যানিটেশন ও নিরাপত্তা সব ক্ষেত্রেই সংকট তৈরি হচ্ছে বলে জানা গেছে। সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, বন্দিদের প্রায় ৬৭ শতাংশই বিচারাধীন বা রিমান্ডে থাকা বন্দি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত কারাগারে ৯৭ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে, গত বছর একই সময়ে যা ছিল ৬১ জন।
দেশের কারাগারে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি
৭৬ কারাগারে বন্দি ১ লাখ ৪ হাজার ৬১৭ জন, ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার; শেরপুরে সাড়ে সাত গুণ চাপ
প্রকাশিত:
পড়তে ১ মিনিট

খবরটি শেয়ার করুন








