ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক বিধবা নারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি ও টিপসই নেওয়ার পর ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই নারীর সঙ্গে এক ব্যক্তির বিয়ে হয়েছে বলে এলাকায় প্রচার করা হলে তিনি স্থানীয়ভাবে বিচার দাবি করেন।

ভুক্তভোগী নারী পাটুলী গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী প্রায় এক যুগ আগে মারা যান। প্রায় চার বছর আগে তার দ্বিতীয় ছেলের বিয়ে হয়। ওই বিয়ের সময় স্থানীয় এক ব্যক্তিকে উকিল শ্বশুর করা হয়। সেই সূত্রে তাদের পরিবারের সঙ্গে তার পরিচয় ও যাতায়াত ছিল।


citytouch 728-X-90

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওই ব্যক্তি কয়েকবার তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। প্রায় দেড় মাস আগে স্থানীয় আরেক ব্যক্তি তাকে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে একটি দোকানে নিয়ে যান। সেখানে তার কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি নেওয়া হয়। কয়েক দিন পর আবার তাকে দোকানে ডেকে একটি খাতায় দুটি টিপসই নেওয়া হয়।

সম্প্রতি ওই বিধবা নারীর সঙ্গে ওই ব্যক্তির বিয়ের একটি এফিডেভিট ও কাবিননামার কাগজ দেখিয়ে এলাকায় প্রচার করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও সভাপতির কাছে অভিযোগ করেন। পরে পাটুলী গ্রামে স্থানীয়ভাবে সালিশ বসে। সেখানে ভুক্তভোগী নারী ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি উপস্থিত না থাকায় বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে আবার সালিশ হওয়ার কথা রয়েছে।


অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারীর সম্মতি ছাড়া তার টিপসই ব্যবহার করে এফিডেভিট ও কাবিননামা তৈরি করা হয়েছে। কাবিননামায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর নির্ধারণ এবং ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের কথা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে সাক্ষী হিসেবে দুজনের নাম দেওয়া হলেও তারা বিয়ের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন।

নাম সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ থাকা দুজন জানান, তাদের অনুমতি বা উপস্থিতি ছাড়াই কাবিননামায় তাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় এক ব্যক্তি অর্থের বিনিময়ে এসব করেছেন এবং তার সঙ্গে আরও একজন জড়িত থাকতে পারেন।


ভুক্তভোগী নারী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে প্রথমে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নেওয়া হয়। পরে তাকে দোকানে নিয়ে কাগজে টিপসই নেওয়া হয়। এখন এলাকায় তার বিয়ে হয়েছে বলে প্রচার করা হচ্ছে। এতে তিনি সামাজিকভাবে বিব্রত ও সম্মানহানির শিকার হচ্ছেন বলে জানান। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

এদিকে কাবিননামায় ব্যবহৃত সিল ও স্বাক্ষর নিয়ে সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রার দাবি করেছেন, তার সিল ও স্বাক্ষর জাল করে ওই কাবিননামা তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলেও দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন। এরপর একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।


স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা জানিয়েছেন, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কেউ এমন ঘটনা ঘটিয়েছে—এমন কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।

ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী নারীকে সম্মানহানির অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।