ইয়েমেনের এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকভর্তি ড্রোন দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে হুথিদের বিরুদ্ধে। একই সময়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি হুথি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, এডেন বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হামলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই কায়রো থেকে একটি ফ্লাইট বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিল। নিরাপত্তার কারণে ফ্লাইটটি জেদ্দায় ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। রানওয়েতে থাকা আরও দুটি বিমানও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

তবে হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। হামলার বিষয়ে হুথিদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

citytouch 728-X-90


হুথিদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ইয়েমেনের অঞ্চলগুলোর অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রিয়াদের উত্তরে একটি হুথি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে তা ধ্বংস করা হয়েছে। জোটের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি হুথিদের নিয়ন্ত্রিত সানা থেকে ছোড়া হয়েছিল। ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্ল্যাটফর্ম শনাক্ত করা হয়েছে এবং সেটিও ধ্বংস করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, কয়েকটি ড্রোন দিয়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

এর আগে বুধবার সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া একটি হুথি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ভূপাতিত করা হয়েছে।


হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি আরও দাবি করেছেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে খামিস মুশাইতের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং একটি বিমানঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ইয়েমেনের বিভিন্ন ফ্রন্টে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী সম্প্রতি হুথিদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে। গত কয়েক সপ্তাহে লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় হুথিরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড দখল করার পর সেগুলো পুনর্দখলের চেষ্টা করছে সরকারি বাহিনী।

নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং বিভিন্ন ফ্রন্টে স্থল লড়াইয়ের তীব্রতা ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে।