গর্ভাবস্থায়ও পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার সুমাইয়া। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার সব ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও ভেরিফিকেশনের কারণে নিয়োগপত্র পাননি বলে জানিয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে পুনরায় যাচাইয়ের আবেদন করেছেন সুমাইয়া।

সুমাইয়ার দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তবে তাঁর ভাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির এজেন্ট ছিলেন এবং তাঁর স্বামী, শ্বশুর ও ভাই বিএনপির বিভিন্ন পদে রয়েছেন। পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ভেরিফিকেশনে তিনি বাদ পড়েছেন কি না, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন সুমাইয়া ও তাঁর পরিবার।

সুমাইয়া বলেন, স্নাতক শেষ করার পর ঢাকার ফার্মগেটে কোচিং করে পড়াশোনা করেছেন। অসুস্থ হয়ে বাড়িতে ফেরার পরও প্রস্তুতি চালিয়ে যান। গর্ভকালীন অবস্থায় পড়াশোনা এবং নবজাতক সন্তানকে রেখে লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। সব ধাপ সফলভাবে শেষ করার পর নিয়োগ না পাওয়ায় পরিবারের সবাই হতাশ বলে জানান তিনি।

citytouch 728-X-90

মঠবাড়িয়ার মিরুখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা সুমাইয়া সাফা হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক ও পিরোজপুর মহিলা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে পিরোজপুর সোহরাওয়ার্দী কলেজের গণিত বিভাগে ভর্তি হয়ে বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কেন তাঁকে ভেরিফিকেশনে বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটি স্পষ্টভাবে জানানো হোক। একই সঙ্গে ভেরিফিকেশন পুনরায় যাচাই করে তাঁকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন তিনি।

মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বলেন, বিষয়টি জেলা অফিস দেখবে। সুমাইয়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আবেদন করলে তাঁরা বিষয়টি বিবেচনা করবেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বখতিয়ার রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে এবং পরবর্তী ধাপে যাচাই-বাছাই করে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।

এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও বিভিন্ন প্রার্থী নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। ভেরিফিকেশন ও নিয়োগপত্র নিয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।