দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার যেকোনো চেষ্টা, নৈরাজ্য ও নাশকতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে রাজপথে সক্রিয় থাকার কথা জানিয়েছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি সহিংসতা ও নাশকতার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে নেতাকর্মীদের সতর্ক ও মাঠে সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মিছিল, সমাবেশ ও গণসংযোগের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম দৃশ্যমান রাখার পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে। যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনগুলোকেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় রাখার কথা রয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সম্প্রতি বলেছেন, ‘আমরা রাজপথে ছিলাম, রাজপথেই থাকব।’ পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে আয়োজিত নয়াপল্টনের এক কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন।

citytouch 728-X-90

দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও সাম্প্রতিক বক্তব্যে বলেছেন, নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা হলে বিএনপি হাত গুটিয়ে থাকবে না। তিনি সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগ ও বোমা হামলার ঘটনাগুলোকে ষড়যন্ত্রের অংশ বলে অভিযোগ করেছেন এবং এসব কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন।

রিজভী আরও অভিযোগ করেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন ও আগের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। তবে এসব বক্তব্য বিএনপির রাজনৈতিক অভিযোগ; সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও ঘটনাগুলোর পৃথক তদন্তের বিষয়ও রয়েছে।

বিএনপি বলছে, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচি ও মতপ্রকাশের অধিকারকে তারা সমর্থন করে, তবে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস বা সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে আইন নিজের হাতে না তুলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেই দায়িত্ব পালনের কথা বলেছেন দলটির নেতারা।

দলের পরিকল্পনায় জেলা, মহানগর ও স্থানীয় পর্যায়ে ধারাবাহিক সভা-মিছিলের পাশাপাশি জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়টিও রয়েছে। একই সঙ্গে সাংগঠনিক ইউনিটগুলোকে সক্রিয় রেখে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির এই অবস্থান মূলত মাঠে সাংগঠনিক উপস্থিতি ধরে রাখা এবং সম্ভাব্য নৈরাজ্য মোকাবিলায় দলীয় প্রস্তুতি জোরদারের কৌশল হিসেবে সামনে এসেছে। তবে রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, জননিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে বিঘ্নিত না হয় সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।