নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ
হৃদয় রায় সজীব
নেত্রকোণার দুর্গাপুর সীমান্তে চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, নারী ও শিশু পাচারসহ সীমান্ত অপরাধ ঠেকাতে নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি)।
বিশেষ করে দুর্গাপুরের বিজয়পুর ও ভবানীপুর এলাকার সোমেশ্বরী নদীপথে চোরাচালান ঠেকাতে নদীর দুই পাশে সিসি ক্যামেরা, সোলার সিস্টেম ও হ্যালোজেন লাইট স্থাপন করেছে বিজিবি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে জেলা ও উপজেলা থেকে আসা সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী, পিএসসি।
তিনি বলেন, সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সব ধরনের চোরাচালান, নারী ও শিশু পাচার এবং সীমান্তবর্তী অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে আনুমানিক ১২ কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি পণ্য আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে মদ, বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, পোশাক, খাবারসামগ্রী, গবাদিপশু ও অন্যান্য পণ্য রয়েছে। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে ভারতে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। গত পাঁচ মাসে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের কয়লা ও অন্যান্য চোরাচালানি পণ্য আটক করেছে বিজিবি। এ সময় ১৭ জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের কারণে দুর্ঘটনা, আহত হওয়া কিংবা সীমান্তে প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটতে পারে উল্লেখ করে তৌহিদুল বারী বলেন, এসব ঘটনা ঠেকাতে সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক সভা, উঠান বৈঠক ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ না করতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
সোমেশ্বরী নদীপথের নজরদারি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্ষায় বিজয়পুর ও ভবানীপুরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সোমেশ্বরী নদীর প্রস্থ প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ মিটার হয়।
এ সময় চোরাকারবারিরা বাঁশ ও নৌকার মাধ্যমে নদীপথে কয়লাসহ বিভিন্ন পণ্য পারাপারের চেষ্টা করে। এ কারণে নদীর দুই পাশে সিসি ক্যামেরা, সোলার সিস্টেম ও হ্যালোজেন লাইট স্থাপন করা হয়েছে।
এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে চোরাচালানের গতিবিধি আগেভাগে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিজিবি অধিনায়ক বলেন, সীমান্তে চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে মানুষকে নিরুৎসাহিত করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।










