ময়মনসিংহের নান্দাইলে আবাসিক মাদরাসার নয় বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষক মাদরাসা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা। ঘটনা ধামাচাপা দিতে শিক্ষার্থীদের কাছে ‘জিনে ধরেছে’ বলে ওই শিক্ষক দাবি করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।


ঘটনাটি ঘিরে রোববার সকালে নান্দাইল পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চন্ডীপাশা গোরস্থানসংলগ্ন বাইতুর রাসূল (সা.) মাদরাসার সামনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদরাসাটি ঘেরাও করে অভিযুক্ত শিক্ষক আবু সাঈদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

citytouch 728-X-90


পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, ভুক্তভোগী শিশু ওই মাদরাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। এরই মধ্যে সে পবিত্র কোরআনের ছয় পারা মুখস্থ করেছে। শনিবার ভোরে ফজরের নামাজ ও পড়াশোনা শেষে ঘুমিয়ে পড়লে তাকে ডেকে তোলেন শিক্ষক আবু সাঈদ। পরে পাশের একটি বাথরুমে নিয়ে গিয়ে সেখানে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।


অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে শিশুটির চিৎকার শুনে অন্য শিক্ষার্থীরা সেখানে ছুটে আসে। তখন তাদের কাছে ঘটনাটি আড়াল করতে ‘জিনে ধরেছে’ বলে দাবি করেন ওই শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেন।


পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে বিকেলে তার বাবাকে মাদরাসায় ডেকে পাঠানো হয়। বাবা তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর মায়ের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায় বলে জানিয়েছে পরিবার। বর্তমানে শিশুটি জ্বরে অসুস্থ হয়ে বাড়িতে শয্যাশায়ী রয়েছে।


রোববার সকালে শিশুটির বাবা মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আবু সাঈদের খোঁজ করলে অন্য শিক্ষকরা জানান, তিনি ছুটি নিয়ে চলে গেছেন। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা মাদরাসার সামনে জড়ো হন।


এদিকে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে শিশুটির বাবা নান্দাইল উপজেলা সদরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

মাদরাসার পরিচালক বিল্লাল জানান, বিষয়টি নিয়ে অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে পরিচালকের এমন বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।


নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।