রংপুর প্রতিনিধি:
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তকিপল হাটে একসময় ছিল বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের (বিজেসি) পাট ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্র। সেখানে এখন পাট কেনাবেচার কার্যক্রম নেই, নেই আগের মতো স্থাপনাও। জরাজীর্ণ টিনের চালা, লোহার কিছু ধ্বংসাবশেষ আর পুরোনো একটি সাইনবোর্ডই যেন অতীতের সাক্ষী। অথচ সরকারি এ সম্পত্তির নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন একজন প্রহরী। তিনি সরকারি বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। এ অবস্থায় পরিত্যক্ত সম্পত্তির নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা জায়গাটির বড় অংশই এখন বেদখলে। পাহারা দেওয়ার মতো দৃশ্যমান স্থাপনা ও সম্পদের অস্তিত্বও সীমিত। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা প্রহরীর দায়িত্ব কীভাবে পালিত হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে তৎকালীন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ জুট করপোরেশন কাউনিয়া পাট ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু করে। প্রায় এক দশক পাট ক্রয় ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ চলার পর ১৯৯৩ সালে সরকারি এক অধ্যাদেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বিলুপ্ত হয়। এরপর থেকে জায়গাটির অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি ক্রমেই নষ্ট হতে থাকে। আইনি জটিলতা ও মালিকানা নিয়ে বিরোধের মধ্যে একপর্যায়ে সম্পত্তিটির বড় অংশ বেদখলে চলে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, তকিপল হাটের কসাইখানার পেছনে আগাছা আর ময়লা-আবর্জনায় ভরা জায়গাটিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে লোহার কিছু ভাঙা অংশ। রয়েছে একটি ভঙ্গুর টিনের চালা ও পুরোনো সাইনবোর্ড। সাইনবোর্ডে বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের নাম উল্লেখ আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জায়গাটি এখন মলমূত্র ত্যাগের স্থান এবং মাদকসেবীদের আড্ডাস্থল হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় তিন দশক ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা এ সম্পত্তির নিয়মিত তদারকি চোখে পড়ে না। মাঝেমধ্যে একজন ব্যক্তিকে সেখানে এসে ঘুরে যেতে দেখা যায়। ফলে সরকারি সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে তাঁদের মধ্যে।
দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা প্রহরী আরিফ হোসেন বলেন, ‘বিজেসির কাউনিয়ার জায়গাটি ছোট। পাট প্রক্রিয়াজাতকরণের একটি যন্ত্র ছাড়া তেমন কিছু নেই। বেশির ভাগ জায়গা বেদখলে চলে গেছে। সেখানে থাকার মতো পরিবেশও নেই। মাঝেমধ্যে গিয়ে জায়গাটি ঠিক আছে কি না দেখে আসি, রাতে থাকি না। এ ছাড়া আমাকে তিন জায়গায় দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।’
বিজেসি রংপুরের আঞ্চলিক কর্মকর্তা মশিউর রহমান মণ্ডল বলেন, ‘নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে আগে যিনি ছিলেন, তাঁকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। বর্তমানে যাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তিনি তিনটি জায়গার দায়িত্ব পালন করছেন। লোকবল সীমিত হওয়ায় চক্রাকারে দায়িত্ব দেওয়া হয়।’
সম্পত্তির মালিকানা ও দখল পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ওই সম্পত্তির ৬০ শতাংশের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশই বেদখলে চলে গেছে। অবশিষ্ট ২০ শতাংশ রয়েছে। সম্পত্তিটি জেলা প্রশাসকের একক রেকর্ডে খাস খতিয়ানে রয়েছে। এ বিষয়ে মামলা করে সেখানে কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সম্পত্তি অব্যবহৃত পড়ে থাকা, অবকাঠামো নষ্ট হওয়া এবং জমির বড় অংশ বেদখলে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তাঁদের মতে, শুধু নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগে সীমাবদ্ধ না থেকে সম্পত্তির বর্তমান অবস্থা যাচাই, বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ এবং দায়িত্ব পালনের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও জনসম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ চান স্থানীয়রা। তাঁদের প্রশ্ন, যে পাটকেন্দ্রের কার্যক্রম তিন দশকেরও বেশি সময় আগে বন্ধ হয়ে গেছে, সেই সম্পত্তির বর্তমান অবস্থা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কবে।










