ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করা এক নবদম্পতিকে গভীর রাতে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, বিয়ের প্রায় এক মাস পর কোনো মামলা বা অভিযোগের বিষয়ে না জানিয়ে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তাঁদের থানায় নেওয়া হয়। পরে তরুণীর মায়ের করা মামলায় তরুণের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা এবং নবদম্পতিকে থানায় নেওয়ার আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও পুলিশের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া গেছে। এক কর্মকর্তা জিডির ভিত্তিতে নবদম্পতিকে উদ্ধারের কথা বললেও তদন্ত কর্মকর্তা এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে, থানার রেকর্ড শাখার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট তারিখে কোনো জিডি বা অভিযোগ রেকর্ড খাতায় লিপিবদ্ধ নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরাইল উপজেলার চানমনিপাড়া গ্রামের আজিজুল ইসলামের মেয়ে নুসরাত জাহান এবং বিজয়নগর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের দুধ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ শ্রাবন গত ২৮ জুন আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন। বিয়ের পর বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, সালিশে নুসরাতকে বাবার বাড়িতে ফিরে যাওয়ার কথা বলা হলেও তিনি স্বামীর সঙ্গে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

citytouch 728-X-90

পরিবারের দাবি, গত ১৪ জুলাই নুসরাতের মা, নানি ও খালা তাঁকে দেখতে শ্বশুরবাড়িতে যান। এর সাত দিন পর, ২১ জুলাই রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বিজয়নগর থানা পুলিশের সহযোগিতায় সরাইল থানার এসআই শামীমের নেতৃত্বে পুলিশ নবদম্পতিকে আটক করে সরাইল থানায় নিয়ে যায়।

নবদম্পতির পরিবারের দাবি, তাঁরা পরস্পরের সম্মতিতে বিয়ে করে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে বসবাস করছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে নুসরাতের মা বাদী হয়ে সরাইল থানায় শ্রাবনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ২৯।

নবদম্পতিকে থানায় নেওয়ার আগে তাঁদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল এবং তাঁদের আটক বা গ্রেপ্তারের আইনগত ভিত্তি কী ছিল, তা জানতে চেয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় পুলিশের দায়িত্ব পালন ও প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি উঠেছে।

বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ বলেন, সরাইল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। তাঁরা সেই অনুরোধে সহযোগিতা করেছেন।

অন্যদিকে, সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে নবদম্পতিকে উদ্ধার করা হয়েছিল এবং পরে রাতে মামলা দায়ের করা হয়। তবে ওই মামলায় কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল না বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভিন্ন বক্তব্য দেন। তাঁর ভাষ্য, তাঁর কাছে জিডি বা অভিযোগের কোনো অনুলিপি নেই এবং এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

এদিকে, সরাইল থানার রেকর্ড শাখায় দায়িত্ব পালনকারী শাহাদাৎ ও জিয়া জানান, ২১ জুলাইয়ের রেকর্ড খাতায় কোনো জিডি বা অভিযোগ লিপিবদ্ধ নেই। তাঁদের দাবি, সরাসরি মামলা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিন ফাহিম বলেন, অভিযোগ বা আইনগত কারণ ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তারের সুযোগ নেই। গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে অবশ্যই আইনগত ভিত্তি থাকতে হবে।

ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় নবদম্পতিকে থানায় নেওয়ার প্রকৃত কারণ, সে সময় কোনো জিডি বা অভিযোগ ছিল কি না এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।