ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল) নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে সাবেক চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ শেয়ার নিয়ন্ত্রণের তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনে নির্ধারিত সীমা অনুযায়ী ব্যক্তি, পরিবার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ধারণের সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক সুপারভিশন বিভাগের একটি বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রত্যক্ষ ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং পরোক্ষ ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ শেয়ার বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে রয়েছে। এর মধ্যে মেসার্স আরুসা অ্যান্ড কোং ও আনিকা শেয়ারস অ্যান্ড সিকিউরিটিজকে ঘিরে প্রক্সি বা বেনামি মালিকানার অভিযোগের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত হওয়ার পরও দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যেই আনিকা শেয়ারস অ্যান্ড সিকিউরিটিজের ইবিএল শেয়ার ১ দশমিক ১৪ শতাংশ থেকে নেমে শূন্য দশমিক ০৫ শতাংশে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আরুসা অ্যান্ড কোংয়ের শেয়ারও বিক্রি হয়ে প্রায় অর্ধেকে নেমে আসার দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মাত্র ১ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনে ২০০১ সালে নিবন্ধিত আরুসা অ্যান্ড কোং ২০০২ সালে ইবিএলের প্রায় ৭ কোটি ৯১ লাখ টাকার শেয়ার কেনে। বোনাস ও স্টক ডিভিডেন্ডের মাধ্যমে সেই শেয়ার বেড়ে ১৫ কোটি ৯১ লাখের বেশি হয়। ২০২৪ সালের হিসাবে এসব শেয়ারের বাজারমূল্য প্রায় ৩০০ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
আরুসার মালিকানা, আয়কর নথি ও অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পরিদর্শন প্রতিবেদনের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি মূলত শওকত আলী চৌধুরীর পক্ষে ইবিএলের শেয়ার ধারণের উদ্দেশ্যেই গঠন করা হয়েছিল এবং তিনিই ওই শেয়ারের ‘আল্টিমেট বেনিফিসিয়াল ওনার’।
এ ছাড়া শওকত আলী চৌধুরীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কোটি কোটি টাকা অগ্রিম ও বিনিয়োগের তথ্যও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব বিষয়ে অধিকতর অনুসন্ধান ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে তদন্তের পরও ব্যবস্থা না নেওয়া এবং তথ্য ফাঁসের অভিযোগ তুলে ১৯ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে আবেদন করেছেন অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। ইবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান ও. রশিদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে শওকত আলী চৌধুরীর বক্তব্যও এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি।









