সরকারি কর্মঘণ্টায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী দেখার অভিযোগে নরসিংদীর বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মঈনুল হাসান চিশতীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর তাঁর সম্পদ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। গত ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার ইংলিশ রোডে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তাকে রোগী দেখারত অবস্থায় পান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এরপর তাকে বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনের সময় অনুপস্থিত থাকার ঘটনায় ওই চিকিৎসককে একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। মন্ত্রীর অভিযোগ, এসবের পরও তিনি ঢাকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত রোগী দেখতেন। সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন—এমন একটি ভুয়া পদত্যাগপত্র ব্যবহার করে পপুলারে চেম্বার করার অভিযোগও তোলা হয়।

এরপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাঁর কথিত বিনিয়োগ নিয়ে তথ্য সামনে এসেছে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, আরমানিটোলার পাশে কোয়ালিটি এইড হাসপাতালে প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং মিটফোর্ডের সামনে ম্যাক্স লাইফ হাসপাতালে প্রায় ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব বিনিয়োগের মালিকানা, অর্থের উৎস ও নথিপত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

citytouch 728-X-90

প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়েছে, কোয়ালিটি এইড হাসপাতালে তাঁর নিজের পাশাপাশি স্ত্রী ডা. খেয়া, বোন ও বোনের স্বামীর নামে বিনিয়োগ রয়েছে। তাঁর মা ফখরুন নাহার এবং শ্বশুর সৈয়দ অ্যালবার্ট কবিরের নামেও শেয়ার কেনার তথ্য থাকার দাবি করা হয়েছে। তবে এসব সম্পদ ও বিনিয়োগের প্রকৃত মালিকানা এবং অর্থের উৎস নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই প্রয়োজন।

এ ছাড়া সিটিজেন্স ব্যাংকে তাঁর নামে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের দাবি করা হলেও, সুনির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাব বা লেনদেনের তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে এই দাবিকেও যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

ডা. মঈনুল হাসান চিশতীর বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগের কথাও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট চিকিৎসা নথি, তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্ত পাওয়া না গেলে তা প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।

সরকারি চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মঘণ্টায় চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগটি ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। এখন তাঁর কথিত সম্পদ, বিনিয়োগ ও অর্থের উৎস নিয়ে যেসব তথ্য সামনে এসেছে, সেগুলো সত্য কি না তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করাই গুরুত্বপূর্ণ।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে ডা. মঈনুল হাসান চিশতীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সম্পদ ও বিনিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।