ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে ককক্রোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) শীর্ষ তিন নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের আটক করার পর আন্দোলনের নেতৃত্বে এসেছেন দলটির জাতীয় সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত অজিঙ্ক শিন্ডে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং তাঁর জ্যেষ্ঠ সহকর্মী সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটক করা হয়।
মুম্বাই থেকে আসা একটি উড়োজাহাজ সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে দিল্লিতে অবতরণের পর পুলিশ সেটিতে প্রবেশ করে তিন নেতাকে আটক করে। পরে তাঁদের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ সূত্রের দাবি, তিনজনকে আলাদা আলাদা জায়গায় রাখা হয়েছে।
আটকের কিছুক্ষণ পর ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ দীপকে জানান, তাঁকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, এখন থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন অজিঙ্ক শিন্ডে।
দীপকে আটক থাকা অবস্থায় ভিডিওটি প্রকাশ করা হলেও সেটি আগে ধারণ করা হয়ে থাকতে পারে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে সিজেপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কে এই অজিঙ্ক শিন্ডে?
মহারাষ্ট্রের আলিবাগের বাসিন্দা অজিঙ্ক শিন্ডে আগে আম আদমি পার্টির (আপ) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৬ সালে গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে দলটির হয়ে প্রচারে অংশ নেন তিনি। পরে মহারাষ্ট্রেও আপের হয়ে কাজ করেন।
কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক শিন্ডে পুনের একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কয়েক বছর চাকরি করেছেন। পরে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বে অনুপ্রাণিত হয়ে উচ্চ বেতনের চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যুক্ত হন।
সিজেপি গঠনের পর থেকেই দলটির সঙ্গে রয়েছেন শিন্ডে। চলতি বছরের জুন ও জুলাইয়ে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে হওয়া বিক্ষোভেও অংশ নেন তিনি। পরবর্তী সময়ে দলের কেন্দ্রীয় কোর টিমের সদস্য হন। বর্তমানে তিনি জাতীয় সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন।
‘নতুন লড়াইয়ের শুরু’
এক ভিডিও বার্তায় অজিঙ্ক শিন্ডে অভিযোগ করেন, দিল্লি বিমানবন্দরেই সিজেপির তিন নেতাকে আটক করেছে ‘স্বৈরাচারী মোদি-শাহ সরকার’। তাঁর দাবি, দেশের মানুষের ঐক্য দেখে সরকার আবারও ভয় পেয়েছে।
শিন্ডে বলেন, গত জুন ও জুলাইয়ে যন্তর মন্তরে দেশজুড়ে মানুষ একত্র হয়ে মোদি-শাহ জুটির অহংকার চূর্ণ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সেই সময় মানুষ যাতে আবার যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে না পারেন, সে জন্য ট্রেন ও বাস চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল এবং বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মানুষকে আটক করা হয়েছিল।
তিন শীর্ষ নেতার আটকের পর শিন্ডের নেতৃত্বে আন্দোলন কীভাবে এগিয়ে যায়, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর করা অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি।










