পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় নিরাপত্তা স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ৩০ দিনের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) লংমার্চকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) জেলার ডেপুটি কমিশনার এ নিষেধাজ্ঞা জারির ঘোষণা দেন। এর ফলে জেলাটিতে পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকাশ্যে অস্ত্র বহন এবং জননিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক বিভিন্ন সরঞ্জাম বহনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
পিটিআইয়ের লংমার্চ বর্তমানে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে কর্মসূচির শুরুতে দলটির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। শনিবার খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রীও জানিয়েছেন, তিনি নিজেই লংমার্চের বহরের নেতৃত্ব দিয়ে ইসলামাবাদের দিকে যাবেন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার জেলা গোয়েন্দা কমিটির (ডিআইসি) এক বৈঠকে রাওয়ালপিন্ডির ডেপুটি কমিশনারকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির বিষয়ে সতর্ক করা হয়। বৈঠকে জেলার গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্থাপনা, প্রধান সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোর ওপর হামলার আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা হয়।
গোয়েন্দা কমিটির আশঙ্কা, সম্ভাব্য হামলার ঘটনা মানুষের জীবন, সরকারি-বেসরকারি সম্পদ এবং জেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিছু গোষ্ঠী ও ব্যক্তি বড় জমায়েত, বিক্ষোভ এবং বিশৃঙ্খল সমাবেশের মাধ্যমে পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে লোকজনকে সংগঠিত করছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
রাওয়ালপিন্ডির ডেপুটি কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন নাদিম নাসিরের জারি করা আদেশে পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন, ঘরে তৈরি বিস্ফোরক, ধারালো স্পাইক, ভারী লাঠি, গুলতি, ধাতব বল, পেট্রলবোমা এবং মানুষের শারীরিক ক্ষতি করতে পারে—এমন অন্যান্য সরঞ্জাম বহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ড্রোন ব্যবহার এবং সমাবেশ ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশের আরোপ করা বিধিনিষেধ তুলে দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগামী ৮ নভেম্বর পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকার কথা।
ইসলামাবাদ ও লাহোরেও ১৪৪ ধারা
পাকিস্তানের অন্যান্য এলাকাতেও জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর জারি করা এক আদেশে ইসলামাবাদে দুই মাসের জন্য এ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
ওই আদেশ অনুযায়ী, রাজধানীর রেড জোনসহ প্রশাসনিক সীমানার মধ্যে জনসমাগমস্থলে পাঁচজন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, র্যালি ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, লাহোরে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকবে। জনশান্তি, স্থিতিশীলতা এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার প্রতি গুরুতর হুমকির কথা উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পাঞ্জাবের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, লাহোরের জনসমাগমস্থল, সড়ক ও খোলা জায়গায় পাঁচজন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল ও সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
তবে বিয়ের অনুষ্ঠান, জানাজা, দাফন, মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়, আদালত এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।










