যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে হারিকেন আইসাইয়াসের আঘাতে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। শক্তিশালী বাতাস ও ভারী বৃষ্টিতে গাছপালা উপড়ে পড়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি। ঝড়ের প্রভাবে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছেন।

শনিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন ছিলেন। নিহতদের মধ্যে ফ্লোরিডা ও আলাবামায় দুজন করে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনায়।

শুক্রবার গভীর রাতে ফ্লোরিডার উপকূলে আঘাত হানে হারিকেন আইসাইয়াস। সে সময় ঝড়টির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬৮ কিলোমিটার। পরে এটি দুর্বল হয়ে পোস্ট-ট্রপিক্যাল সাইক্লোনে পরিণত হয়।

citytouch 728-X-90

ঝড়ের আশঙ্কায় আগেই ফ্লোরিডা, আলাবামা ও জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল। পাশাপাশি ফ্লোরিডা ও আলাবামার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার হাজারো বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ফ্লোরিডার এসকাম্বিয়া কাউন্টিতে ঝড়ের কারণে দুটি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় শেরিফ চিপ সিমন্স জানান, একটি বাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর স্বামী জোয়ি উইলিয়ামস জানান, ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির ছবি তুলতে বাইরে যাওয়ার পর তাঁরা বাড়িতে ফিরে আসেন। এর কিছুক্ষণ পর একটি গাছ বাড়ির ছাদ ভেঙে ভেতরে পড়ে। তিনি বের হতে পারলেও তাঁর স্ত্রীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এ ছাড়া, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকা একটি গ্যারেজে জেনারেটর চালানোর কারণে কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওই বাড়িতে থাকা আরও চারজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ঝড়ের কারণে সৃষ্ট বন্যায় বিভিন্ন স্থানে যানবাহনেও আটকা পড়েন মানুষ। ফ্লোরিডা ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা পানিতে আটকে পড়া একটি গাড়ির কাছে সাঁতরে গিয়ে আরোহীদের উদ্ধার করেন। অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর রন ডিস্যান্টিস বন্যার ঝুঁকি অব্যাহত থাকার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

প্রতিবেশী আলাবামায় সড়ক দুর্ঘটনায় সাড়া দিতে গিয়ে গাছের আঘাতে আহত হয়েছেন এক পুলিশ সদস্য। অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর কে আইভি জানিয়েছেন, ঝড়ের কারণে সেখানে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি টর্নেডোর আশঙ্কা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়টি উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসন জানিয়েছে, জর্জিয়া ও ক্যারোলাইনা অঞ্চলে সর্বোচ্চ ১০ ইঞ্চি বা প্রায় ২৫ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে এসব এলাকায় বন্যার ঝুঁকি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের দিকে এগোচ্ছে হারিকেন সিমন। ঝড়টি শক্তিশালী হয়ে ক্যাটাগরি-৪-এ পৌঁছেছে। একই অঞ্চলে র্যাচেল নামের আরেকটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ের গতিপথ নিয়েও নজর রাখা হচ্ছে। এটি দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।