ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন ইসরাইলিরা। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় দেশজুড়ে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব এবং দেশটির রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান ডানপন্থী প্রভাব নিয়ে নিজেদের মতামত জানাবেন ভোটাররা।

নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ৭৩ লাখ। স্থানীয় সময় রাত ১০টায় অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার কথা রয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন মেয়াদে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা নেতানিয়াহু এবার কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছেন। সর্বশেষ জনমত জরিপে তাঁর লিকুদ পার্টি ও ডানপন্থী মিত্রদের সঙ্গে মধ্যপন্থী নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটের ব্যবধান খুবই কম দেখা গেছে।

২০২৩ সালের হামাসের হামলার পর গাজায় যুদ্ধ, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতার প্রেক্ষাপটে ভোটাররা নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের মূল্যায়ন করছেন।

জনমত জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ও আইজেনকোটের প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের মধ্যে তীব্র লড়াই হতে পারে। সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকোট নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। তাঁর জোটে ডানপন্থী ও মধ্যপন্থী—উভয় ধারার সমর্থকেরা রয়েছেন।

তবে কোনো পক্ষেরই এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ পরিষ্কার নয়। ইসরাইলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য নির্বাচনের পর জোট গঠন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নির্বাচনী প্রচারে নিজের যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়েছেন নেতানিয়াহু। ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাতে ট্রাম্পের সমর্থনও তাঁর প্রচারের অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।

নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি ক্ষমতায় থাকলে ইরানের হুমকি স্থায়ীভাবে নির্মূল করতে ট্রাম্প আবারও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে আইজেনকোট তাঁর বিরুদ্ধে ভয়ভীতি, মিথ্যা ও হুমকিনির্ভর প্রচারের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, জনগণ যাঁকেই নেতা হিসেবে বেছে নিক, ট্রাম্প তাঁর সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতায় কাজ করবেন বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী।

সরকার গঠনের জন্য নেতানিয়াহুকে আবারও কট্টর ডানপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোত্রিচের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাঁদের দুজনই পশ্চিমা কয়েকটি দেশের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন। জনমত জরিপে বেন-গভিরের দল ইহুদি শক্তির সমর্থন বাড়ার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।

নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকোট—কেউই সরকার গঠনের বিষয়ে নিশ্চিত অবস্থানে নেই। কোনো পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠ জোট গঠনে ব্যর্থ হলে আগামী বছর নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব পালন করতে পারে।