অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে করা মামলায় আরও দুজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তাঁর স্ত্রী রুখমিলা জামানসহ ৩৬ জন আসামি রয়েছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে ওই দুই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও আসামিপক্ষের জেরা শেষ হয়। এ নিয়ে মামলাটিতে এখন পর্যন্ত ৪৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২১ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
দুদকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের প্রটোকল কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে মালিক সাজিয়ে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়। পরে জাল নথিপত্রের মাধ্যমে ইউসিবির পোর্ট শাখা থেকে প্রতিষ্ঠানটির নামে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়।
দুদকের তদন্তে বলা হয়েছে, ঋণ অনুমোদনের আগে ব্যাংকের ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দিয়েছিল। এরপরও তৎকালীন চেয়ারম্যান রুখমিলা জামানের প্রভাব এবং সাইফুজ্জামান চৌধুরীর হস্তক্ষেপে ঋণটি অনুমোদন করা হয় বলে অভিযোগ সংস্থাটির।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ঋণের প্রায় ১৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা আরামিট সিমেন্ট ও আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়ামের পুরোনো দেনা পরিশোধে ব্যবহার করা হয়। বাকি প্রায় ৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা নগদে তুলে হুন্ডি ও হাওলার মাধ্যমে দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে বলে দুদকের অভিযোগ।
মামলাটির তদন্তে রুখমিলা জামানের গাড়িচালকের এক প্রতিবেশীর বাসা থেকে ২৩ বস্তা নথি ও বিভিন্ন আলামত উদ্ধারের দাবিও করেছে দুদক। সংস্থাটির ভাষ্য, এসব নথি যাচাই করে বিদেশে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
মামলায় ইউসিবি থেকে ঋণ জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগে ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। ৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ এখনো চলছে।









