স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত পাঁচ গুণ এবং নির্বাচনি ব্যয়সীমা দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রার্থী সংখ্যা কমানোর লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন বিধিমালায় এসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীর জামানত ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। জামানত ফেরত পেতেও এখন মোট প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ পেতে হবে। বর্তমানে এ সীমা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ নির্বাচনি ব্যয় ৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীর ব্যয়সীমা ১ লাখ থেকে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে।
এ ছাড়া নির্বাচনি অপরাধে সাজা বাড়ানো এবং ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে নির্বাচন বন্ধ করার ক্ষমতা ইসিকে দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তবে কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে আগের মতোই যে কেউ ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন।
২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালায় পরিবর্তন এনে সংশোধনীটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে এটি ইসিতে এসেছে। এসআরও নম্বরের জন্য আবার আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।
ইসি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো নির্দলীয় ও প্রতীকবিহীন হওয়ায় বিশেষ করে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে ব্যালট ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচন পরিচালনার চাপ কমাতে প্রার্থী সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ানোর ফলে আর্থিকভাবে কম সক্ষম হলেও যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন, এর ফলে নাগরিকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।










