দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি গ্যাস কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং সমুদ্রের ব্লকগুলোতে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ১৫০ কূপের কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ৩০টির খনন বা ওয়ার্কওভার শেষ হয়েছে, যা থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হয়েছে। আরও সাতটি কূপের কাজ শেষ হলে অতিরিক্ত প্রায় ৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

এদিকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিজিএফসিএল ২০৩০ সালের মধ্যে ছয়টি নতুন কূপ এবং আটটি স্থগিত কূপের ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে দৈনিক ১০৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও নয়টি নতুন কূপ ও ১২টি বিদ্যমান কূপের ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনাও করছে।

citytouch 728-X-90

জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশীয় গ্যাস, কয়লা ও আমদানিকৃত জ্বালানির সমন্বিত ব্যবহার নিয়ে কাজ করার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি গভীর সমুদ্রে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে উৎপাদন-বণ্টন চুক্তি (PSC) আরও বিনিয়োগবান্ধব করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।

সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সিসমিক জরিপের উদ্যোগ রয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রের ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের গ্যাসের চাহিদা মেটাতে শুধু আমদানির ওপর নির্ভর না করে দেশীয় অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এলএনজি আমদানির সক্ষমতাও ধরে রাখতে হবে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই বহুমুখী উৎসের সমন্বয় কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।