ধুলোবালি, যানবাহনের ধোঁয়া ও ক্ষতিকর বস্তুকণার কারণে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণ। জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বায়ুর মানকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এর প্রভাব পড়ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও স্বাস্থ্যের ওপর।

বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরগুলোর তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। ঢাকার বায়ুমান সূচক (একিউআই) স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ১৬৫। এ স্কোর অনুযায়ী, শহরটির বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের প্রকাশিত সূচকে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সংস্থাটির তালিকা অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর পাকিস্তানের লাহোর। শহরটির একিউআই স্কোর ৪৪৪, যা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ পর্যায়ের। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। শহরটির স্কোর ২০২, যা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত।

এ ছাড়া ১৯২ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা। ১৭৩ স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বৃহত্তম শহর দুবাই। আর ১৬৫ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ঢাকা।

আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে বাতাসের মান ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোরকে মাঝারি বা সহনীয় বলা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর হলে তা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়।

অন্যদিকে, ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরকে অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরকে খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি স্কোরকে দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বাংলাদেশে বায়ুমান সূচক নির্ধারণে দূষণের পাঁচটি উপাদান বিবেচনা করা হয়। এগুলো হলো বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন (ও৩)।

পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হিসেবে ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণকাজের ধুলাকে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), ফুসফুসের ক্যানসার ও তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে। সংস্থাটির হিসাবে, বিশ্বে বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।