আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে বিএনপি। যাঁর জয়ের সম্ভাবনা বেশি, তাঁকেই প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।

তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতারা আলোচনার মাধ্যমে উপযুক্ত প্রার্থী বাছাই করবেন। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সিলেট নগরীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন রিজভী।

তিনি জানান, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়ন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। ভোটগ্রহণ ও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখ ঘোষণার পর দলীয় কার্যক্রমও সে অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া হবে।

চলমান শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পেছনে দেশি-বিদেশি ইন্ধন রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা।

রিজভী বলেন, দেশের পরাজিত শক্তি প্রতিবেশী দেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের উসকানি দিচ্ছে। দেশের ভেতরেও কিছু রাজনৈতিক শক্তি নতুন সরকারকে অস্থিতিশীল করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করে দেশে গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করছে পরাজিত শক্তি। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করে পোস্ট দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে’ বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, একটি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র আট মাসের মধ্যে আবার বিপ্লবের কথা কেন বলা হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়।

তিনি বলেন, যেসব বিষয়ে সংসদে আলোচনা করে সমাধান করা সম্ভব, সেসব বিষয় নিয়ে লংমার্চের মাধ্যমে দেশের মানুষকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে।

জামায়াতের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছর প্রকাশ্যে গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছে। এ আন্দোলনে দলটির নেতাকর্মীরা রক্ত দিয়েছেন এবং জীবন উৎসর্গ করেছেন। অন্যদিকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মধ্যে মিশে গোপনে কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও আব্দুল মালিক চৌধুরীসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।