রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় ফের সড়ক অবরোধ করেছেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। জবাবে শ্রমিকরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে পালটাপালটি ধাওয়া শুরু হয়।

শ্রমিক আন্দোলনের কারণে মিরপুর মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রয়েছে।

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এবং শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে কারখানা থেকে বের হয়ে যাওয়ায় মিরপুর, গাজীপুর-ময়মনসিংহ এবং সাভার-আশুলিয়া-জিরানী শিল্পাঞ্চলের ৬৭৯টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কাজ না করেই কারখানা থেকে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হয়েছেন ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ জন শ্রমিক।

তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর হিসাব অনুযায়ী, দেশের পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে মোট ২ হাজার ১৩৪টি কারখানার মধ্যে ১ হাজার ৪৫৫টি খোলা ছিল। বাকি ৬৭৯টি কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের কারণে উৎপাদন বন্ধ ছিল।

শিল্পাঞ্চলভিত্তিক হিসাবে, মিরপুরের ৩২০টি কারখানার মধ্যে ৫৫টি থেকে শ্রমিকরা বের হয়ে যান। এতে কাজে অংশ না নেওয়া শ্রমিকের সংখ্যা ৫৩ হাজার ৮৪০ জন।

গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকার ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ৩৮২টি বন্ধ ছিল। সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী শিল্পাঞ্চলের ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২২৩টিতে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রাখেন। এসব কারখানায় কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৪৩ হাজার।

নারায়ণগঞ্জের ১৯৯টি কারখানার মধ্যে ৯টি থেকে শ্রমিকরা বের হয়ে যান। অন্যদিকে, চট্টগ্রামের ৩৪০টি কারখানায় কোনো শ্রমিক অসন্তোষ বা কাজ বন্ধের ঘটনা ঘটেনি।

শিল্পাঞ্চলগুলোতে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।