আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ফের মাঠে সক্রিয় হওয়ার সাহস পাচ্ছে কেন—এর পেছনে জামায়াত ও এনসিপির ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তার দাবি, বিরোধী দলগুলোর সাম্প্রতিক কর্মসূচি ও রাজনৈতিক উত্তেজনার সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা আবারও মাঠে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব দাবি করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই নীরব থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের আবার সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে।
এর উদাহরণ হিসেবে ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজার প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খান দাবি করেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে শেখ হাসিনার জন্মদিনে মাশরাফি কোনো শুভেচ্ছা পোস্ট করেননি। তবে ২০২৬ সালে এসে তিনি শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট করেছেন।
রাশেদ খানের ভাষ্য, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাম্প্রতিক তৎপরতার পেছনে বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক কর্মসূচিও ভূমিকা রাখছে। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার রাজনীতি করছে এবং তাদের কর্মসূচির সুযোগ নিচ্ছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
তিনি আরও দাবি করেন, বাস-ট্রেনে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ ও ঝটিকা মিছিলের মতো কর্মকাণ্ড ফের শুরু হয়েছে। এসব ঘটনায় জামায়াত-এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগের তৎপরতাকে উৎসাহিত করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রাশেদ খান বলেন, প্রশাসনসহ বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী এতদিন নীরব ছিলেন, তারাও সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আওয়ামী লীগ ও জামায়াত-এনসিপির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে বিএনপি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির কথা বলেন। সম্প্রতি রাড্ডা ক্লিনিক ও নিউ গিনি প্রোপার্টিজে হামলার ঘটনাকেও তিনি সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দাবি করেন।
তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফেরার পর এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও পরিকল্পিতভাবে আলোচনার দিক অন্যদিকে নেওয়া হয়েছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই পোস্টে রাশেদ খানের এসব অভিযোগের পক্ষে বিস্তারিত নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ উপস্থাপনের কথা উল্লেখ নেই। তার বক্তব্যগুলোকে রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।










