মানুষের দৃষ্টির আড়ালে রয়েছে অদৃশ্য জগতের বিস্ময়কর নানা সৃষ্টি, যার বিষয়ে কোরআন ও সহিহ হাদিসে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। এর অন্যতম হলো বায়তুল মামুর—সপ্তম আকাশে অবস্থিত এমন এক পবিত্র স্থান, যেখানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ফেরেশতা ইবাদত করেন বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

বায়তুল মামুর শব্দের অর্থ আবাদ বা জনবহুল ঘর। পবিত্র কোরআনের সুরা তুরে আল্লাহ তাআলা বায়তুল মামুরের শপথ করেছেন। আয়াতগুলোতে বলা হয়েছে—

وَالْبَيْتِ الْمَعْمُورِ ۝ وَالسَّقْفِ الْمَرْفُوعِ ۝

citytouch 728-X-90

অর্থ: ‘শপথ বায়তুল মামুরের এবং সুউচ্চ ছাদের।’
— সুরা তুর, আয়াত ৪–৫

মিরাজের রাতে বায়তুল মামুর দেখেন নবীজি (সা.)

বায়তুল মামুর সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায় মিরাজের সহিহ হাদিসে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সপ্তম আকাশে পৌঁছালে তাঁকে বায়তুল মামুর দেখানো হয়। সেখানে তিনি হযরত জিবরাইল (আ.)-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন।

সহিহ বুখারির বর্ণনায় জিবরাইল (আ.) বলেন, প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতা বায়তুল মামুরে প্রবেশ করেন। তারা সেখান থেকে বের হয়ে গেলে আর কখনো ফিরে আসেন না।
— সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২০৭

এই বর্ণনা আসমানি জগতের বিশালতা ও ফেরেশতাদের বিপুল সংখ্যা সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়। প্রতিদিন নতুন একদল ফেরেশতা সেখানে প্রবেশ করেন এবং ইবাদত করেন।

ফেরেশতাদের ইবাদতের স্থান

মুফাসসিরদের ব্যাখ্যায়, বায়তুল মামুর ফেরেশতাদের ইবাদতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান। পৃথিবীতে মুসলমানরা যেমন কাবাঘরকে কেন্দ্র করে তাওয়াফ ও ইবাদত করেন, তেমনি আসমানে ফেরেশতাদের বায়তুল মামুরে ইবাদতের কথা হাদিসে এসেছে।

বায়তুল মামুরের অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য অদৃশ্য জগতের বিষয়। তাই কোরআন ও সহিহ হাদিসে যতটুকু তথ্য পাওয়া যায়, তার বাইরে অনুমাননির্ভর কোনো বিবরণকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে গ্রহণ না করার বিষয়ে আলেমরা সতর্ক করেছেন।

কাবাঘরের সঙ্গে কী সম্পর্ক?

তাফসিরের বিভিন্ন বর্ণনায় বায়তুল মামুরকে কাবাঘরের ওপরের দিকে সপ্তম আকাশে অবস্থিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে পৃথিবীর কাবাঘর ও আসমানের বায়তুল মামুরের মধ্যে ইবাদতের একটি সাদৃশ্যের কথা বলা হয়।

তবে বায়তুল মামুরের সুনির্দিষ্ট অবস্থান, আকৃতি বা গঠন সম্পর্কে সহিহ সূত্রে যতটুকু বর্ণনা রয়েছে, তার বাইরে নিশ্চিতভাবে অতিরিক্ত কিছু বলা উচিত নয়।

বায়তুল মামুরের কাছে ইবরাহিম (আ.)

মিরাজের রাতে সপ্তম আকাশে মহানবী (সা.) হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। সহিহ বুখারির বর্ণনায় রয়েছে, তিনি বায়তুল মামুরের কাছে হযরত ইবরাহিম (আ.)-কে দেখতে পান।

মিরাজের এই ঘটনা বায়তুল মামুরের মর্যাদা এবং আসমানি জগতের সঙ্গে এর সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরে।

আল্লাহর সৃষ্টিজগতের বিশালতার নিদর্শন

প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতার বায়তুল মামুরে প্রবেশ এবং একবার বের হওয়ার পর আর ফিরে না আসার বর্ণনা আল্লাহর সৃষ্টিজগতের বিশালতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। মিরাজের রাতে মহানবী (সা.)-এর বায়তুল মামুর প্রত্যক্ষ করার ঘটনাও ইসলামের অদৃশ্য জগতের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনগুলোর একটি।