ব্যালন ডি’অর নিয়ে প্রতি বছরই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তর্ক থাকে। কারও মতে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আবার কারও কাছে দলকে জেতানো ট্রফিই বড় বিবেচনা। তবে এই পুরস্কারের বিজয়ী নির্ধারণে রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড ও ভোটিং প্রক্রিয়া।
চলতি বছরের ব্যালন ডি’অরের দৌড়েও দেখা যাচ্ছে এমন বিতর্ক। বার্সেলোনা ও স্পেনের ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল মনে করছেন, মৌসুমজুড়ে জেতা একাধিক শিরোপা তাঁকে পুরস্কারটির অন্যতম প্রধান দাবিদার করেছে। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপে গুরুত্ব দিচ্ছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ফিফা বিশ্বকাপে তাঁর গোল করার ধারাবাহিকতাকে।
হ্যারি কেইন, উসমান দেম্বেলে, রদ্রি ও লিওনেল মেসির মতো তারকার নামও বিভিন্ন আলোচনায় উঠে আসছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কে পাবেন ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার, তা নির্ধারণ হয় কীভাবে?
কীভাবে নির্বাচিত হন ব্যালন ডি’অর জয়ী?
ফ্রান্স ফুটবল প্রতিবছর ব্যালন ডি’অর পুরস্কার আয়োজন করে। প্রথম ধাপে ফ্রান্স ফুটবল, লেকিপ ও ইউয়েফার কয়েকজন প্রতিনিধির সহায়তায় ৩০ জন খেলোয়াড়ের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা হয়।
এরপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচিত সাংবাদিকরা নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করে ভোট দেন। ফিফা র্যাংকিংয়ের শীর্ষ ১০০ দেশের প্রত্যেকটি থেকে একজন করে সাংবাদিক ভোট দেওয়ার সুযোগ পান।
প্রতিটি সাংবাদিককে ৩০ জনের তালিকা থেকে সেরা ১০ জনকে ক্রমানুসারে বেছে নিতে হয়। এরপর সেই অবস্থানের ভিত্তিতে খেলোয়াড়দের পয়েন্ট দেওয়া হয়।
প্রথম পছন্দ পাওয়া খেলোয়াড় পান ১৫ পয়েন্ট। এরপর দ্বিতীয় থেকে দশম অবস্থানে থাকা খেলোয়াড়দের দেওয়া হয় যথাক্রমে ১২, ১০, ৮, ৭, ৬, ৫, ৪, ৩, ২ ও ১ পয়েন্ট।
সব ভোটের পয়েন্ট যোগ করার পর সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া খেলোয়াড়ই হন ব্যালন ডি’অর জয়ী। যদি দুই বা ততোধিক খেলোয়াড় সমান পয়েন্ট পান, তখন সবচেয়ে বেশি ‘প্রথম পছন্দের’ ভোট পাওয়া খেলোয়াড়কে বিজয়ী করা হয়।
কোন বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়?
ব্যালন ডি’অর নির্ধারণে মূলত তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স: গোল, অ্যাসিস্ট, ম্যাচে প্রভাব, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পারফরম্যান্স এবং পুরো মৌসুমে খেলোয়াড়ের সামগ্রিক নৈপুণ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়।
দলীয় সাফল্য: ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে জেতা ট্রফি এবং সেই সাফল্যে খেলোয়াড়ের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু শিরোপা জেতাই নয়, সেই শিরোপা জয়ে খেলোয়াড় কতটা কার্যকর ছিলেন, সেটিও বিবেচনায় আসে।
আভিজাত্য ও ফেয়ার প্লে: মাঠে খেলোয়াড়ের আচরণ, খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতা, নৈতিকতা ও ফেয়ার প্লেকেও মূল্যায়নের অংশ হিসেবে ধরা হয়। বিশেষ করে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ও দলীয় সাফল্যে কাছাকাছি অবস্থানে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে পার্থক্য গড়তে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
অর্থাৎ, ব্যালন ডি’অর কেবল গোল বা ট্রফির হিসাব নয়। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, দলীয় সাফল্য এবং মাঠের আচরণ মিলিয়েই ভোটাররা তাঁদের পছন্দের খেলোয়াড় নির্বাচন করেন।










