নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ হৃদয় রায় সজীব 


প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিন মাসব্যাপী ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’-এর অংশ হিসেবে নেত্রকোণায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নেত্রকোনা পৌরসভার উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার ও মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে দ্বিতীয় সপ্তাহের এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

citytouch 728-X-90


অভিযানে সরাসরি অংশ নেন নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান। হাতে কোদাল নিয়ে তিনি নিজেই জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন। এ সময় ‘লেটস রিবিল্ড আওয়ার নেশন’ সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। শুধু সরকারি দপ্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। তিনি আরও  জানান, এখন থেকে প্রতি শনিবার নিয়মিতভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পর্যায়ক্রমে শহরের প্রতিটি স্পট এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। পরিচ্ছন্নতা অভিযান সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিলে বছরব্যাপী এ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


নেত্রকোনা পৌরসভার প্রশাসক, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা বলেন, ডেঙ্গুর ‘হট জোন’ বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।


তিনি বলেন, “শুধু সরকার বা পৌরসভার একক প্রচেষ্টায় শহর পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। সবার সম্মিলিত সচেতনতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই সুন্দর নগরী গড়ে তোলা সম্ভব।


অভিযানে নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওয়াহিদুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিজা খাতুনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।


আয়োজকরা জানান, ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিই এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।


ছুটির দিনে জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশগ্রহণে স্থানীয়দের মধ্যেও উৎসাহ দেখা যায়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসন ও নাগরিকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ার উদ্যোগ আরও বেগবান হবে।