স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো পণ্য বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী আয়ান অনিক। তার দাবি, গত প্রায় দুই বছর ধরে কুরিয়ারটির মাধ্যমে পণ্য পাঠানোর সময় একাধিকবার পার্সেল ভেঙে বা নষ্ট হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত তার প্রায় দুই থেকে তিন লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

আয়ান অনিক চীন থেকে পণ্য আমদানি করে দেশে বিক্রি করেন। তার ব্যবসায় বিভিন্ন ধরনের তুলনামূলক দামি পণ্য রয়েছে, যার একেকটির মূল্য প্রায় এক থেকে চার হাজার টাকা। প্রায় দুই বছর ধরে তিনি এসব পণ্য গ্রাহকদের কাছে পাঠাতে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করে আসছেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, চীন থেকে সমুদ্রপথে দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দিয়ে পণ্যগুলো বাংলাদেশে পৌঁছালেও সাধারণত সেগুলো অক্ষত থাকে। কিন্তু কুরিয়ারের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর সময় তুলনামূলক স্বল্প দূরত্বের ডেলিভারিতেই অনেক পণ্য ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে।

citytouch 728-X-90

আয়ান অনিক জানান, প্রথমদিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে বিষয়টিকে দেখলেও গত দুই বছরে এ ধরনের ঘটনা প্রায় দেড় শতাধিকবার ঘটেছে বলে তার দাবি। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে পার্সেল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার হার আগের তুলনায় বেড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ নিয়ে প্রথমবার স্টেডফাস্ট কুরিয়ারের কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করেন আয়ান অনিক। তার দাবি, তখন কাস্টমার কেয়ার থেকে তাকে জানানো হয়, ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের জন্য প্রতিষ্ঠানটি কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা বা ক্ষতিপূরণ দিতে পারবে না। তবে কুরিয়ারের কারণে পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকায় তারা ডেলিভারি চার্জগুলো মওকুফ করে দিতে পারে বলে জানানো হয়।

আয়ান অনিকের ভাষ্য, কাস্টমার কেয়ারের ওই আশ্বাসের পর তিনি পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট পার্সেলগুলোর হিসাব যাচাই করেন। তখন দেখতে পান, যেসব ডেলিভারি চার্জ মওকুফ করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, সেগুলোও তার হিসাব থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও ডেলিভারি চার্জ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিষয়টি জানতে তিনি পুনরায় কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করেন। তবে পরবর্তী যোগাযোগেও কোনো কার্যকর সমাধান বা স্পষ্ট জবাব পাননি বলে দাবি করেন আয়ান অনিক। তার অভিযোগ, একাধিকবার যোগাযোগ করেও ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের ক্ষতিপূরণ কিংবা ডেলিভারি চার্জ মওকুফ—কোনোটিরই বাস্তব সমাধান তিনি পাননি।

তার দাবি, গত দুই বছরে এভাবে প্রায় দেড় শতাধিক পার্সেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সব মিলিয়ে প্রায় দুই থেকে তিন লাখ টাকার পণ্য নষ্ট হয়েছে। শুরুতে এসব ঘটনাকে ভুল বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখলেও একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতে থাকায় তিনি বিষয়টি নিয়ে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন।

এদিকে, এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি পোস্ট দিয়েছেন আয়ান অনিক। সেখানে তিনি দাবি করেন, এক মাসেই ১০ থেকে ১৫টি দামি পার্সেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষতিগ্রস্ত পার্সেলগুলোর জন্য ডেলিভারি চার্জ নেওয়ার পর ফোনে তা শূন্য করে দেওয়ার কথা বলা হলেও সেটি কার্যকর করা হয়নি।

ফেসবুক পোস্টে কুরিয়ার সার্ভিসটির কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এভাবে পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকলে তার মতো মার্চেন্টদের জন্য ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন। ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের জন্য যথাযথ সমাধান না পাওয়ায় স্টেডফাস্ট কুরিয়ারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক থেকে সরে দাঁড়ানোর কথাও জানান তিনি।

আয়ান অনিক আরও জানান, তার ব্যবসার পণ্যগুলো তুলনামূলক দামি হওয়ায় প্রতিটি পার্সেল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সঙ্গে সরাসরি আর্থিক ক্ষতি জড়িত। তার অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে পণ্য ভাঙার ঘটনা আগের তুলনায় বেড়ে যাওয়ায় তিনি ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন।

তিনি বলেন, ভালো ও নির্ভরযোগ্য কোনো কুরিয়ার সার্ভিস না পাওয়া পর্যন্ত তিনি এভাবে পণ্য পাঠিয়ে ব্যবসা করতে চান না। তার মতে, কুরিয়ার সেবার মাধ্যমে পণ্য নিরাপদে গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো না গেলে একজন অনলাইন ব্যবসায়ীর জন্য ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।