পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে মারধরের ভিডিও ধারণ করায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরটিভির সংবাদদাতা আবু তাহেরকে প্রাণনাশের হুমকি, হেনস্তা এবং তাঁর মুঠোফোন থেকে ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ সময় তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা, দেয়ালে ঠেসে ধরে ধাক্কাধাক্কি এবং শার্টের কলার ধরে টানাটানি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। আবু তাহের বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্যও। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে কথাকাটাকাটির জেরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের শেষ পর্যায়ে কলা ভবনের পেছনের ঝোপে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হচ্ছিল। এ সময় দূর থেকে ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন আবু তাহের। ভিডিও ধারণের বিষয়টি টের পেয়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁর ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকজন শিক্ষার্থী আবু তাহেরের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাঁকে দেয়ালে ঠেসে ধরে ধাক্কাধাক্কি করা হয় এবং শার্টের কলার ধরে টানাটানি করা হয়। এ সময় ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। আবু তাহের বলেন, ‘কলা ভবনের পেছনে ঝোপের মধ্যে ব্যবস্থাপনা বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ইংরেজি বিভাগের তিন শিক্ষার্থীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করছিলেন। আমি দূর থেকে ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলাম। এ সময় ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক শিক্ষার্থী আমাকে ভিডিও করতে দেখে অন্যদের ডেকে জানান। এরপর কয়েকজন আমার কাছে এসে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁরা আমার সঙ্গে জোরজবরদস্তি করেন, দেয়ালে ঠেসে ধরেন এবং ধাক্কাধাক্কি করেন। কয়েকজন আমার শার্টের কলার ধরে টানাটানি করেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাঁরা আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন, “ভিডিও যদি পোস্ট হয়, তোরে শেষ কইরা ফেলমু”, “ভিডিও পোস্ট হইলেই তোর খবর আছে, তোরে ধরমু।” আমি কয়েকবার তাঁদের অনুরোধ করে ছেড়ে দিতে বলি। ভিডিওটি মুছে দিচ্ছি বলেও জানাই। কিন্তু এরপরও তাঁরা আমাকে ছাড়েননি। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এসে আমাকে তাঁদের কাছ থেকে ছাড়িয়ে দেন।’ আবু তাহেরের ভাষ্য, পরে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা আবার তাঁর কাছে এসে মুঠোফোন কেড়ে নেন। এরপর ফোনে থাকা ধারণ করা ভিডিওটি মুছে ফেলা হয়। গ্যালারিসহ ফোনের বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা করার পর তাঁকে মুঠোফোনটি ফেরত দেওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে শনাক্ত অভিযুক্তরা হলেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের আব্দুল কাদির জিলানী, রায়হান আহমেদ, হোসাইন চৌধুরী, দিদারুল ইসলাম, মাছুদ রানা মবিন এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের রায়হান তালুকদার। এ ছাড়া আরও দুজনের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিক পরিচয় শুনে ভয়ে কথা বলতে চান নি ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী দিদারুল হক চৌধুরী। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, 'হ্যা, আমি সেখানে ছিলাম। এ বিষয়ে পরে কথা বলবো। আমিই কল দিবো।'


অভিযুক্ত আরেক শিক্ষার্থী ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের রায়হান তালুকদার বলেন, 'আমি সেখানে ছিলাম না। ওখানে আরো ৫০-৬০ জনের মতো ছিলো। প্রক্টর স্যার যখন ছিলো, আমি তখন ছিলাম। পরে প্রক্টর স্যার চলে আসতে বলায় আমি চলে এসেছি। সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নেওয়ার বিষয়টি আমি জানি না।'

citytouch 728-X-90