রাজধানীতে চলাচলকারী রাইদা পরিবহন ঘিরে বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনা, যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, মারধর ও হয়রানির অভিযোগ সামনে এসেছে। এর পাশাপাশি চালক-হেলপারদের নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগও উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে চালক-হেলপারদের অস্বাভাবিক আচরণ, যাত্রীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, চালক-হেলপারদের আচরণ, যাত্রী হয়রানি এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি যথেষ্ট নয়। একের পর এক অভিযোগ ও ভিডিও সামনে এলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

১৯ এপ্রিল ২০২৪ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণাধীন এলাকায় রাইদা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, বাসটি মোটরসাইকেল আরোহীকে ধাক্কা দেওয়ার পর কিছু দূর তাকে টেনে নিয়ে যায়।

citytouch 728-X-90

রাইদা বাস ডিপোর মালিক হত্যা

রাইদা পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেকটি আলোচিত ঘটনা হলো বাস ডিপোর মালিক হত্যাকাণ্ড। ১৭ জানুয়ারি দিয়াবাড়ী মেট্রো গোলচত্বরে লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করে মরদেহ পুঁতে রাখার অভিযোগ ওঠে।

মামলার অভিযোগ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ১৮ লাখ টাকার বাস বিক্রি এবং সুদের লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে আসাদুল, সবুজসহ কয়েকজন এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের আগস্ট এবং ২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে রাইদা পরিবহনের চালক ও হেলপারদের বিরুদ্ধে যাত্রীদের মারধর ও জখমের অভিযোগে একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ঘটনায় পরিবহনটির কর্মীদের আচরণ নিয়ে সমালোচনা দেখা যায়।

সব মিলিয়ে দুর্ঘটনা থেকে শুরু করে যাত্রী হয়রানি, মারধর এবং চালক-হেলপারদের বিরুদ্ধে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগ—রাইদা পরিবহন নিয়ে প্রশ্নের পর প্রশ্ন উঠছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর নজরদারি এবং ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।