পায়রা বন্দরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ করতে আন্ধারমানিক নদীর ওপর নির্মাণাধীন চার লেনের সেতুটির কাজ এগিয়েছে প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রায় ১ হাজার ১৮০ মিটার দীর্ঘ এ সেতু চালু হলে পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালের সঙ্গে ছয় লেনের সংযোগ সড়ক এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের সরাসরি যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে সেতুটি। আন্ধারমানিক নদীর নাব্যতা ও নৌযান চলাচল বিবেচনায় রেখে এক্সট্রা-ডোজড ক্যাবল সেতু পদ্ধতিতে এর নির্মাণকাজ করা হচ্ছে। সেতুটিতে রাখা হয়েছে মাত্র দুটি প্রধান পিলার। ২০২৪ সালের ১২ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় এর পাইলিং কাজ।
সেতুটির সঙ্গে নির্মাণ করা হচ্ছে ৬.৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ছয় লেনের সংযোগ সড়ক। চীনের China Railway Bridge Construction Group (CRBC) ও China Civil Engineering Construction Corporation (CCECC) নির্মাণকাজে যুক্ত রয়েছে।
পায়রা বন্দরের সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) তাজহার কবির জানান, সেতুটির মূল অবকাঠামোর প্রায় ৯৪ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। অক্টোবরের মধ্যেই প্রাথমিক কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। অক্টোবরের শেষ নাগাদ যানবাহন চলাচলের জন্য সেতুটি পুরোপুরি প্রস্তুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সেতুটি চালু হলে বন্দরের পণ্য পরিবহন দ্রুত ও সহজ হওয়ার পাশাপাশি ভারী যানবাহনের চলাচল বাড়বে। এতে বন্দরকেন্দ্রিক পরিবহন ও লজিস্টিকস ব্যবসারও প্রসার ঘটতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তবে একই নদীতে পরপর তিনটি সেতু নির্মাণের ফলে আন্ধারমানিকের নাব্যতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, উন্নয়নের পাশাপাশি নদীর নৌপথ সচল রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।









