নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ

নেত্রকোনার পূর্বধলায় সাংবাদিক পরিচয়ে একটি কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে চালক ও লোডারকে মারধর এবং ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সালমান রহমান পল্লবের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

একই ঘটনায় গাড়ি থেকে ৭৭৩ পিস সোয়েটার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

citytouch 728-X-90

অভিযোগের পর সালমান রহমান পল্লবকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে পদ ও দল থেকে বহিষ্কার করেছে জেলা ছাত্রদল।

আকন্দ ফ্যাশন সোয়েটারের পরিচালক মো. হারুন রশিদ লিটন (৪৭) রোববার রাতে পূর্বধলা থানায় মামলাটি করেন। এতে সালমান ও মোরাদ মিয়াকে নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন সোমবার সন্ধ্যায় দ্য ডেইলি স্টারকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে দুর্গাপুর উপজেলার কেট্টা বাজারের আকন্দ ফ্যাশন সোয়েটার কারখানা থেকে ৭১ বস্তায় ৫,২২৮ পিস সোয়েটার নিয়ে একটি কাভার্ড ভ্যান গাজীপুরের ভবানীপুর বাজারে মোহাম্মাদী সোয়েটার লিমিটেডের উদ্দেশে রওনা হয়।

চালক মো. শরিফ ও লোডার মো. শাহাজাহান আলী গাড়িটি চালিয়ে যাওয়ার সময় পূর্বধলার গোহালাকান্দা ইউনিয়নের মাঝিপাড়া এলাকায় রাধাগোবিন্দ মন্দিরের সামনে সালমান ও মোরাদের নেতৃত্বে কয়েকজন গাড়িটির পথরোধ করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সালমান গাড়ির চাবি নিয়ে নেন। পরে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে গাড়িতে অবৈধ মালামাল ও মাদক রয়েছে বলে চালক ও লোডারকে ভয় দেখানো হয়। একপর্যায়ে চালককে মারধর করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

চালক গাড়িতে সোয়েটার থাকার কথা জানালে তাঁকে ও লোডারকে হত্যার হুমকি দিয়ে গাড়িটি শ্যামগঞ্জ বাজারের অ্যাম্বিশন মডেল কলেজের সামনে নিয়ে যাওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে কারখানার মালিকের স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী সেখানে গিয়ে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তবে চাঁদার টাকা না পাওয়ায় গাড়ি থেকে ১১ বস্তায় থাকা ৭৭৩ পিস সোয়েটার নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় এসব পণ্যের মূল্য ৬৮ লাখ ৭৯ হাজার ৭০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার এক পর্যায়ে সালমান নিজেকে পূর্বধলা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দেন এবং তাঁর ভাই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দাবি করে পুলিশ প্রশাসন তাদের কিছু করতে পারবে না বলে হুমকি দেন।

পরে বিষয়টি পুলিশ ও দলীয় নেতাদের জানানো হলে জেলা নেতাদের মধ্যস্থতায় নেওয়া ৭৭৩ পিসের মধ্যে ৭৬৬ পিস সোয়েটার ফেরত দেওয়া হয়। বাকি সাতটির মূল্য ৬২ হাজার ৩০০ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। রাত ৪টার দিকে চালক ও লোডারকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পূর্বধলা থানায় এ ঘটনায় ২৭ সেপ্টেম্বর এফআইআর নম্বর ৪৪-এ দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩৮৫, ৩৮৬, ৩৮৭ ও ৪১৯ ধারায় মামলা হয়েছে।

এদিকে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সালমান রহমান পল্লবকে পদ ও দল থেকে বহিষ্কার করেছে নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদল।

জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম খান পাঠান (প্রান্ত) স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনিক মাহাবুব চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল হুদা শামিম সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেছেন। একই সঙ্গে সংগঠনের নেতাকর্মীদের তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ওসি মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।”