হৃদয় রায় সজীব, নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ
আমাকে কোটি কোটি টাকা দিয়েও কেউ কিনতে পারবে না। চাপ দিয়ে কোনো অনিয়ম করাতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলে আমি সরে চলে যাব। নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে অনিয়মের সঙ্গে আপস না করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে এ কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ খালেদ উজ্জামান।
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের টিটিসি কনফারেন্স রুমে জেলার গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচিতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে গণমাধ্যমের সহযোগিতা ও উন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর এ সভার আয়োজন করে।
উপাচার্য বলেন, আমি নিয়মের মধ্যে সব কাজ করব। নিয়মের বাইরে আমি করব না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দলীয় পরিচয় বা প্রভাবকে প্রাধান্য না দিয়ে মেধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, শিক্ষক বা চাকরির ক্ষেত্রে মেধার কোনো বিকল্প নেই। দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে মেধার ভিত্তিতেই নিয়োগ দিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কথা জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, পিয়ন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন পদে স্থানীয় দরিদ্র মানুষের সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
নিজের দায়িত্ব পালনের প্রসঙ্গে প্রফেসর ড. মোঃ খালেদ উজ্জামান বলেন, তিনি রাজশাহী থেকে নেত্রকোণায় এসেছেন এবং চার বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। এখানে তাঁর কোনো আত্মীয়-স্বজন নেই বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আপনারা জমি দিয়েছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয় তো আপনাদের, সবকিছুই আপনাদের। এই বিশ্ববিদ্যালয়টা যাতে পরিচ্ছন্নভাবে এগিয়ে যায়, সে জন্য আপনাদের সহযোগিতা চাই।
নিজের কর্মদক্ষতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি ভালো ভিত্তি তৈরি করে যেতে চান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, পাঁচ কিংবা দশ বছর পর নেত্রকোণায় বেড়াতে এসে যেন তিনি এখানকার মানুষের কাছ থেকে ভালোবাসা ও সম্মান পান। তাঁর ভাষায়, এমনভাবে কাজ করে যেতে চান, যাতে ভবিষ্যতে তাঁকে দেখে কেউ মুখ ফিরিয়ে না নেন।
তবে অনিয়মের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে উপাচার্য বলেন, আমাকে কোটি কোটি টাকা দিয়েও কেউ কিনতে পারবে না। কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁকে দিয়ে অনিয়ম করানোর চেষ্টা হলে প্রয়োজনে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি জানিয়ে দায়িত্ব থেকে সরে যাবেন।
সভায় নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক, জনসম্পৃক্ততা এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।








