শেরপুর জেলা শহরের গৌরীপুর মহল্লায় উত্তরা স্পেশালাইজড প্রাইভেট লিমিটেড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) যোবায়ের রহমান বিপ্লবের বিরুদ্ধে প্রায় ১০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কর্মচারী, অংশীদার, বিনিয়োগকারী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাওনাদাররা এ অভিযোগ করেছেন। তবে বিপ্লবের দাবি, হাসপাতালটি অন্যরা দখল করে নিয়েছে এবং জীবনের নিরাপত্তার শঙ্কায় তিনি সেখানে যাচ্ছেন না।

এমডির অনুপস্থিতিতে হাসপাতালের শতাধিক কর্মচারী বেতন ও পাওনা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি থাকা প্রায় ৩০ রোগীর চিকিৎসাসেবা চালু রাখতে সংশ্লিষ্টরা জরুরি ভিত্তিতে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

হাসপাতালসংশ্লিষ্টদের দাবি, ২০১৮ সালে চিকিৎসক, বিনিয়োগকারী ও অংশীদারদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। ২০২৫ সালে হাসপাতালটি তাদের না জানিয়ে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করা হয়েছে এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন অংশীদার ও বিনিয়োগকারী। এরপর কর্মচারীদের বেতন, অংশীদারদের লভ্যাংশ, বিনিয়োগকারীদের পাওনা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

citytouch 728-X-90

গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে কর্মচারী, অংশীদার ও পাওনাদারদের নিয়ে বিপ্লবের কার্যালয়ে বৈঠক হয়। সেখানে হিসাব-নিকাশ ও পাওনা পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা হয় এবং তিন দিন সময় নেন বিপ্লব বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তবে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই তিনি হাসপাতাল ছেড়ে যান বলে অভিযোগ তাদের।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, অন্তত ১৫টি চুক্তিনামায় বিভিন্ন পাওনাদারের কাছে বিপ্লবের মোট পাওনা প্রায় ১১ কোটি টাকা উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া নতুন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার নামে বিনিয়োগ এবং কর্মচারীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন তারা। এসব অভিযোগের বিষয়ে বিপ্লবের বক্তব্য হলো, হাসপাতালটি অন্যরা দখলে নিয়েছে এবং নিরাপত্তার কারণে তিনি সেখানে যাচ্ছেন না।

সংকটের মধ্যে গত ৩০ সেপ্টেম্বর কর্মচারী, হাসপাতাল মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও চিকিৎসকদের বৈঠকে চিকিৎসাসেবা চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়। আপৎকালীন সময়ে একটি কমিটির মাধ্যমে কর্মচারীদের বেতন ও জরুরি খরচ পরিচালনার কথাও জানানো হয়েছে।

শেরপুর চেম্বার অব কমার্স, হাসপাতাল মালিক সমিতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা বলছেন, হাসপাতাল দখল হয়নি; বরং রোগীদের চিকিৎসাসেবা চালু রাখতে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করা হচ্ছে। তারা বিপ্লবকে ফিরে এসে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে হিসাব-নিকাশ পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

শেরপুরের পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর খোঁজ নিয়ে হাসপাতাল দখলের ঘটনা পাওয়া যায়নি। বিপ্লবের বিরুদ্ধে অনেকের টাকা পাওয়ার বিষয়টি জানা গেছে। তবে তিনি দখলের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াছমিনও জানান, তারা আবেদন পেয়েছেন। হাসপাতাল দখলের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিপ্লব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দখলের অভিযোগ করলেও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেননি।