শরীয়তপুরের হাজী শরীয়তউল্লাহ জেনারেল হাসপাতালে উল্টো অবস্থানে থাকা নবজাতককে প্রসব করাতে গিয়ে মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, শিশুটির অবস্থান সম্পর্কে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ই জানানো হলেও সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারে কয়েক ঘণ্টা বিলম্ব করা হয়। পরে শিশুটির একটি পা বের হয়ে এলে দুই নার্স স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটিকে টানাটানি করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রসববেদনা নিয়ে ১৯ বছর বয়সী স্বপ্না বেগমকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্বজনদের দাবি, গর্ভের শিশুটি উল্টো অবস্থানে থাকায় সিজার করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকের অপেক্ষায় সময় পার হয়। রাত ১১টার দিকে শিশুটির একটি পা বের হয়ে এলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।

পরিবারের অভিযোগ, এরপর নার্স পিয়ালি রানী ও আফরোজা স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে শিশুটিকে বের করার চেষ্টা করেন। এতে শিশুটির হাত-পা বের হলেও মাথা আটকে যায়। শিশুটিকে বের করতে টানাটানি করা হয় বলেও অভিযোগ স্বজনদের। পরে শিশুটির মৃত্যু হয়। রাত ১টার দিকে প্রসূতির চিকিৎসা নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

citytouch 728-X-90

স্বপ্নার মা সালমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকেই তারা সিজারের কথা বলেছিলেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পার হলেও চিকিৎসক আসেননি। পরে শিশুর পা বের হয়ে গেলে নার্সরা টানাটানি করেন। তাঁর দাবি, অবহেলার কারণেই এই মৃত্যু হয়েছে এবং তারা ঘটনার বিচার চান।

তবে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দাবি, শিশুটি মায়ের পেটেই মারা যায়। ক্লিনিকের মালিক নয়ন সরকার বলেন, রাতে নিয়মিত চিকিৎসক থাকেন না। অন্য চিকিৎসককে আনার সময় শিশুটির পা বের হয়ে যায় এবং তিনি ঝুঁকি নিতে না চেয়ে চলে যান। এরপর নার্সরা প্রসব করানোর চেষ্টা করেন। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো অবহেলা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

ক্লিনিকের আরএমও চিকিৎসক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, শিশুটি উল্টো অবস্থানে ছিল এবং তার হৃদস্পন্দন কম ছিল। তবে প্রসূতির সংকটাপন্ন অবস্থার কথা তাকে সময়মতো জানানো হয়নি। রাত ১১টার দিকে খবর পেয়ে তিনি গিয়ে শিশুটির পা বের হয়ে থাকতে দেখেন।

ঘটনাটি নিয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পালং থানার ওসি শাহ আলম জানান, পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন বলেন, ক্লিনিকটির অনুমোদন রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। চিকিৎসায় অবহেলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।